নিজস্ব প্রতিবেদক :
পাহাড় ও সমতলের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২৬-শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা বা ‘ফর্ম ৭এ’ প্রকাশ করা হয়েছে। শহরের অলিতে-গলিতে এখন শুধু প্রচারের লড়াই আর রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ।

প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নির্দল—মোট ১১ জন প্রার্থী এবার শিলিগুড়ির মানুষের রায় পেতে ময়দানে নেমেছেন।হেভিওয়েটদের লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, লড়াই মূলত বহুমুখী হতে চলেছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে যারা লড়ছেন:
অলোক ধারা : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (চিহ্ন: হাত)
গৌতম দেব: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (চিহ্ন: জোড়া ফুল)
শঙ্কর ঘোষ: ভারতীয় জনতা পার্টি (চিহ্ন: পদ্ম)
শরদিন্দু চক্রবর্তী (জয়): ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) (চিহ্ন: কাস্তে-হাতুড়ি-তারা)
প্রিয়াঙ্কা বোস: বহুজন সমাজ পার্টি (চিহ্ন: হাতি)
অন্যান্য দলের উপস্থিতি জাতীয় ও রাজ্যস্তরের স্বীকৃত দলগুলো ছাড়াও ময়দানে আছেন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা: মমতা দাস: আমরা বাঙালি (চিহ্ন: পাল তোলা নৌকা ও মানুষ) ডা. শাহরিয়ার আলম: এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) (চিহ্ন: ব্যাটারি টর্চ)
ফ্যাক্টর হতে পারেন ৪ নির্দল প্রার্থী
মূল লড়াইয়ের পাশাপাশি চারজন নির্দল প্রার্থীও নির্বাচনের মাঠে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন। এরা হলেন কৃষ্ণনন্দ সিং (চিহ্ন: রুটি), তরুণ তলাপাত্র (চিহ্ন: সাতটি রশ্মিসহ কলম-নিব), সুনীল পণ্ডিত (চিহ্ন: টেবিল) এবং সূরজ বিশ্বকর্মা (চিহ্ন: শিকল)। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দল প্রার্থীদের সংগৃহীত ভোট অনেক সময় বড় দলগুলোর জয়ের ব্যবধানে বড় প্রভাব ফেলে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করল। শিলিগুড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং সরকারি দপ্তরে ইংরেজি, বাংলা ও নেপালি—এই তিন ভাষাতেই প্রার্থীদের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটাররা সহজেই তাদের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে জানতে পারেন।
এখন দেখার, শিলিগুড়ির সচেতন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের চাবিকাঠি কার হাতে তুলে দেন। আগামী কয়েক দিন প্রচারের পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

