নিজস্ব প্রতিবেদক : সমাজে সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যায়নি—আজও কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা নিঃশব্দে, নিরলসভাবে সমাজের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও তাঁদের কাজই হয়ে ওঠে প্রকৃত প্রেরণা। কোচবিহার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা মৃন্ময় ঘোষ সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি ‘পঞ্চপান্ডব’ সংস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসাধারণ সামাজিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করা থেকে শুরু করে, সমাজের প্রান্তিক মানুষদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ দেখানো—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার খরচ বহন করতেও এগিয়ে আসেন নিঃসংকোচে। অথচ এত কিছুর পরেও তিনি কখনোই নিজেকে প্রচারের কেন্দ্রে আনতে চান না।
এমন নিষ্ঠা ও মানবিকতা সত্যিই তাঁকে এক অনন্য সমাজনায়কের মর্যাদা দেয়।অন্যদিকে, শিলিগুড়ি মহকুমার বিধান নগরের মুরালীগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুল আলমও সমানভাবে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, সদিচ্ছা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় একটি সরকারি স্কুলকে কীভাবে আদর্শ ও মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ এই স্কুল।
পিছিয়ে পড়া এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকেও যে জাতীয় স্তরের সাফল্য অর্জন সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন তিনি।
সোমবার মুরালীগঞ্জ হাইস্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সামসুল আলমকে সংবর্ধনা জানান মৃন্ময় ঘোষ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য চিকিৎসক হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়া একাধিক মেধাবী ছাত্রছাত্রী, যাঁদের অনেকেই পঞ্চপান্ডব সংস্থার সহায়তায় নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
প্রতি বছর এই সংস্থার সহযোগিতায় বহু ছাত্রছাত্রী ডাক্তারি পাশ করে বের হচ্ছেন, যা এক অনন্য নজির।অনুষ্ঠানে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবীন চিকিৎসক সুফল মণ্ডল জানান, মুরালীগঞ্জ হাইস্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থা তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণে তাঁরা পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সদ্য উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিনি গর্বিত এবং তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরও বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে অন্তরায় হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মেধা এবং মৃন্ময় ঘোষের মতো সমাজসেবীদের সহায়তা।এই দুই মানুষের নিষ্ঠা ও মানবিক উদ্যোগ আজকের সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

