প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত জিতনীতা টোপ্পোর

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিলিগুড়ির প্রেরণা এডুকেশনাল সেন্টার থেকে উঠে আসা এক অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প এখন সবার নজর কাড়ছে। উত্তরবঙ্গ কাউন্সিল ফর দ্য ডিসএবলড-এর অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী জিতনীতা টোপ্পো নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সকল বাধা অতিক্রম করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

দার্জিলিংয়ের একটি চা বাগান এলাকার আদিবাসী পরিবারে জন্ম জিতনীতার। পরিবারে আর্থিক সঙ্কট চরম হলেও এবং দৃষ্টিহীনতার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। ২০১৬ সালে প্রেরণা এডুকেশনাল সেন্টারে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবনে নতুন দিশা আসে।

এখানে তিনি শুধু পড়াশোনাই নয়, জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কম্পিউটার শিক্ষাও অর্জন করেন।ক্রমাগত পরিশ্রম ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় ২০১৯ সালে তিনি মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে শিলিগুড়ির কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, সেবক রোডে ভর্তি হন। সেখানে নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করে কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করেন জিতনীতা।

বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি কম্পিউটার ব্যবহার করে নিজের উত্তরপত্র লিখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রতি মিনিটে ৫০টি শব্দ টাইপ করার দক্ষতা এবং অটল আত্মবিশ্বাস তাঁকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি ৭৫.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে শুধু নিজের পরিবারই নয়, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকেও গর্বিত করেছেন।

জিতনীতার এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক দিশা, মানসিক দৃঢ়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকেই জয় করা সম্ভব। তাঁর এই যাত্রা অন্যদের জন্য এক উজ্জ্বল প্রেরণা হয়ে থাকবে, বিশেষ করে সেইসব শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখতে শেখে।