বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রাক্কালে শান্তির বার্তা—যুদ্ধের আবহে মানবতার আহ্বান পৃথা সেনের কণ্ঠে

নিজস্ব প্রতিবেদন : বর্তমান বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, সংঘাত ও যুদ্ধের আবহ ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শান্তির সন্ধানেই মুখিয়ে রয়েছে গোটা মানবসমাজ। এমন পরিস্থিতিতে বহু আগেই শান্তি ও মানবতার পথ দেখিয়ে গেছেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গৌতম বুদ্ধ।

এই প্রসঙ্গেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন শিলিগুড়ি রবীন্দ্রনগর গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী এবং ‘কলাঙ্গন’-এর কর্ণধার পৃথা সেন। তাঁর কথায়, আজকের অশান্ত বিশ্বে এই দুই মহামানবের দর্শনই আমাদের নতুন করে পথ দেখাতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি স্মরণ করে তিনি বলেন—
“যেখানে মনে ভয় নেই এবং মাথা থাকে উঁচু করে…”—এই ভাবনায় কবিগুরু এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ভয়ের কোনও স্থান নেই, নেই সংকীর্ণতা বা বিভেদ; রয়েছে কেবল মুক্ত, মানবিক ও শান্ত সমাজ।

অন্যদিকে, গৌতম বুদ্ধের বাণীও আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—
“হিংসা কখনো হিংসা দিয়ে থামে না, প্রেমই পারে তার অবসান ঘটাতে।”
পৃথা সেনের মতে, এই শিক্ষাই আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে প্রতিহিংসা নয়, বরং সহমর্মিতা, করুণা ও ভালোবাসার মাধ্যমেই শান্তির পথ নির্মাণ সম্ভব।

তিনি আরও জানান, কলাঙ্গনের মাধ্যমে আবৃত্তি শিক্ষার এক সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সেখানে তিনি এবং অন্যান্য বাচিক শিল্পীরা সম্মিলিতভাবে সংস্কৃতি ও সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছেন।

পৃথা সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ আমাদের বারবার অহিংসা, প্রেম ও আসক্তি ত্যাগ করে নির্লিপ্তভাবে কাজ করার শিক্ষা দিয়েছেন। একইভাবে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা, গান ও বিভিন্ন সৃষ্টির মাধ্যমে বারবার শান্তির বার্তা তুলে ধরেছেন।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পয়লা মে বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং তার ঠিক পরেই ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী—এই দুই পবিত্র দিনকে সামনে রেখে আজকের এই অশান্ত সময়ে তাঁদের দর্শন আরও বেশি করে স্মরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সবশেষে তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব—যুদ্ধ নয়, শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ, মানবতার জয়ই হতে পারে বিশ্বের একমাত্র সত্যিকারের বিজয়।