বুদ্ধ পূর্ণিমা: জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত পবিত্র দিন

Oplus_16908288
Oplus_16908288

তন্ময় বড়ুয়া (শরৎচন্দ্র পল্লী, হায়দরপাড়া, শিলিগুড়ি) :বুদ্ধ পূর্ণিমা, যা ‘বৈশাখী পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বছরের সবচেয়ে পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনটি পালনের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে, যেগুলোকে একত্রে ‘ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিন’ বলা হয়।

​১. গৌতম বুদ্ধের জন্ম
​আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে নেপালের লুম্বিনী কাননে রাজা শুদ্ধোদন ও রাণী মায়ার ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাজপুত্র সিদ্ধার্থ। বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, বৈশাখী পূর্ণিমার এই তিথিতেই তাঁর ধরাধামে আগমন ঘটেছিল।
​২. বুদ্ধত্ব বা বোধি লাভ
​দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনার পর বিহারের বুদ্ধগয়ায় একটি বোধিবৃক্ষের নিচে সিদ্ধার্থ পরম জ্ঞান বা ‘বুদ্ধত্ব’ লাভ করেন। এই ঘটনার মাধ্যমেই তিনি গৌতম বুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি পান। কাকতালীয়ভাবে, এই মহান অর্জনের দিনটিও ছিল একটি বৈশাখী পূর্ণিমা।
​৩. মহাপরিনির্বাণ লাভ
​৮০ বছর বয়সে কুশীনগরে বুদ্ধ এই মর্ত্যলোক ত্যাগ করেন, যাকে বৌদ্ধ ধর্মে ‘মহাপরিনির্বাণ’ বলা হয়। তাঁর জীবনের এই সমাপ্তির দিনটিও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা।
​মূল তাৎপর্য: > বুদ্ধ পূর্ণিমা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি গৌতম বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী এবং করুণার বাণীকে স্মরণ করার দিন। এই দিনে ভক্তরা মন্দিরে সমবেত হয়ে পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গশীল গ্রহণ করেন, প্রদীপ প্রজ্বলন করেন এবং বিশ্ব শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। মূলত বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ—এই তিনটি মহিমান্বিত স্মৃতিকে অক্ষয় করে রাখতেই বিশ্বজুড়ে এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।