মহানন্দা আরতিতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, বুদ্ধ পূর্ণিমায় প্রকৃতি রক্ষার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ির প্রাণরেখা মহানন্দা নদীকে ঘিরে আবারও জাগ্রত হলো ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সচেতনতার এক অনন্য উদ্যোগ। প্রতি পূর্ণিমা তিথির মতোই পয়লা মে বুদ্ধ পূর্ণিমার পবিত্র দিনে মহানন্দা বাঁচাও কমিটির উদ্যোগে মহানন্দা আরতি অনুষ্ঠিত হয় গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশে। উপস্থিত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নদীর তীরে তৈরি হয় এক শান্ত, পবিত্র ও সচেতনতার আবহ।

এই বিশেষ দিনে বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্যও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবনে অহিংসা, সহানুভূতি ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, “সমস্ত জীব ও প্রকৃতির প্রতি দয়া ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনই প্রকৃত ধর্ম।” বুদ্ধ প্রকৃতিকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাকে মানবজাতির দায়িত্ব বলে মনে করতেন।

মহানন্দা বাঁচাও কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী জ্যোৎস্না আগরওয়ালা এদিন বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ আজ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। মে মাসে যেখানে প্রচণ্ড গরম থাকার কথা, সেখানে এখন ঝড়-বৃষ্টির কারণে সেই তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে না। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মহানন্দা নদী আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই নদীকে বাঁচাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় সংকটে পড়বে। তাই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নদী শুধু জলধারা নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশব্যবস্থার কেন্দ্র। নদী বাঁচলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পানীয় জলের উৎস ও আবহাওয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে। নদী দূষিত বা শুকিয়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে প্রকৃতির প্রতিটি স্তরে।

বুদ্ধের দর্শনেও প্রকৃতির সঙ্গে এই গভীর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। তিনি শিখিয়েছেন, মানুষ যদি প্রকৃতির ক্ষতি করে, তবে তার ফল ভোগ করতেই হবে। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করা।

এই ভাবনা থেকেই মহানন্দা আরতির মাধ্যমে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং মহানন্দা নদীকে রক্ষায় একত্রিত হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।