নিজস্ব প্রতিবেদক : বুদ্ধ পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে আনলেন শিলিগুড়ির মহানন্দাপাড়ার বুদ্ধ ভারতীর উপ-বিহারাধ্যক্ষ উত্তমাসারা থের বা ভিক্ষু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, গৌতম বুদ্ধ কেবল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, তিনি মানবমনের গভীর বিশ্লেষক—এক অর্থে একজন মনোবিজ্ঞানীও।

তিনি জানান, মানুষের দুঃখ, অশান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে হলে বাইরের জগতে নয়, নিজের অন্তরে বুদ্ধকে উপলব্ধি করতে হবে। শুধুমাত্র তাঁকে একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে দেখা বা তাঁর বাণী মুখস্থ করলেই হবে না—বরং সেই দর্শনকে জীবনে প্রয়োগ করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
উত্তমাসারা থের আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনের কারণে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে এবং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধের শিক্ষাই হতে পারে শান্তির পথ। তাঁর মতে, যদি মানুষ সত্যিকারের অর্থে বুদ্ধের দর্শন উপলব্ধি করতে পারে, তবে মানসিক অশান্তি অনেকটাই দূর হবে এবং সমাজে সৌহার্দ্য ফিরে আসবে।
গৌতম বুদ্ধের কিছু অনুপ্রেরণামূলক বাণী “মনই সবকিছু; তুমি যা ভাবো, তুমি তাই হয়ে ওঠো।”
“ঘৃণা কখনো ঘৃণার মাধ্যমে শেষ হয় না, ভালোবাসার মাধ্যমেই তার অবসান ঘটে।”
“শান্তি আসে অন্তর থেকে, বাইরে তা খুঁজে পাওয়া যায় না।”
“নিজেকেই নিজের প্রদীপ বানাও, অন্যের উপর নির্ভর কোরো না।”
“অতীত নিয়ে ভাবো না, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করো না—বর্তমানেই মনোযোগ দাও।”
এই বাণীগুলিই আজকের অস্থির সময়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়—নিজেকে বদলালেই সমাজ বদলাবে।

