মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরল ছোট্ট ঋদ্ধি, মানবিকতায় সফল হলো বিনামূল্যের হার্ট অপারেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাত্র ১১ মাস বয়সে জীবনের সঙ্গে কঠিন লড়াই লড়ছিল ছোট্ট ঋদ্ধি দাস। হৃদযন্ত্রে জন্মগত ফুটো নিয়ে প্রতিদিনই সে এগিয়ে যাচ্ছিল মৃত্যুর দিকে। অবশেষে একাধিক মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার হাত ধরে কলকাতার নারায়ণা হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ঋদ্ধির হার্ট অপারেশন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ঋদ্ধি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঋদ্ধির দিদিমা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন এবং বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সংসারের সীমিত আয়ে কয়েক লক্ষ টাকার চিকিৎসা করানো তাদের কাছে ছিল দুঃস্বপ্নের মতো।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে শিলিগুড়ির খালপাড়া এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচের কথা জানানো হয়। সেই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে না পেরে কার্যত ভেঙে পড়ে পরিবারটি। এরপর শক্তিগড় এলাকার টোটোচালক মুনমুন সরকারের মাধ্যমে ঋদ্ধির পরিবারের যোগাযোগ হয় “খবরের ঘন্টা”-র সঙ্গে।

এরপর খবরের ঘন্টায় একাধিকবার ঋদ্ধির অসহায় পরিস্থিতির খবর সম্প্রচার করা হয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়। সেই সংবাদ নজরে আসে বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম গোস্বামীর। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শিশুটির পাশে দাঁড়ান এবং কলকাতায় চিকিৎসার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

গৌতমবাবুর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে কলকাতার এক নামী বেসরকারি হাসপাতালে মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয় ঋদ্ধির হার্ট অপারেশন। বর্তমানে সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে শিলিগুড়িতে ফিরেছে ছোট্ট ঋদ্ধি। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এখন তার মুখে ফুটেছে হাসি, স্বস্তির হাসি ফিরেছে পরিবারের সদস্যদের মুখেও।

শুক্রবার শিলিগুড়ির নবগ্রাম সুকান্ত পল্লিতে ঋদ্ধির বাড়িতে গিয়ে সমাজসেবী গৌতম গোস্বামী শিশুটির হাতে চকোলেট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন। ঋদ্ধির মা ও দিদিমা গৌতমবাবুর মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে এমন সহৃদয় মানুষ খুব কমই দেখা যায়।

পরিবারের দাবি, খবরের ঘন্টার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো তাঁদের এই অসহায় পরিস্থিতির কথা সমাজের সামনে পৌঁছাত না। আর সেই সূত্র ধরেই গৌতম গোস্বামীর মতো একজন মানবিক মানুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান। বর্তমানে অপারেশনের পর আগের যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই মুক্ত ঋদ্ধি। যে শিশু কিছুদিন আগেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিল, সে আজ নতুন জীবনের আনন্দে হাসছে। এদিন শক্তিগড়ের বিখ্যাত টোটো চালক মুনমুন সরকারও ঋদ্ধি সুস্থ অবস্থায় কলকাতা থেকে অপারেশন করিয়ে ফিরে আআসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।