নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র উত্তরকন্যায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দফতরের শীর্ষ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা সরাসরি এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর অবস্থা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
উত্তরকন্যা সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন জনমুখী সরকারি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘সবুজ সাথী’র মতো প্রকল্পগুলির সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ও চা বাগান এলাকার উপভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় বৈঠকে।
আসন্ন বর্ষার মরশুমকে সামনে রেখে বন্যা ও পাহাড়ি ধস মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেচ দফতর ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রাস্তার উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিন কিছু সরকারি প্রকল্পের ধীরগতির কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষের স্বার্থে চলা প্রকল্পে কোনও রকম গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রিতা মেনে নেওয়া হবে না। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলি দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।
উত্তরকন্যায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে সারাদিন জুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ছিল ব্যাপক তৎপরতা।

