নিজস্ব প্রতিবেদক : উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র উত্তরকন্যায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উঠে এল শিলিগুড়িকে পৃথক প্রশাসনিক জেলা হিসেবে ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ দাবি। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই দাবিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক আনন্দময় বর্মন।

বৈঠকের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিধায়ক শিলিগুড়িকে স্বতন্ত্র জেলা ঘোষণার পক্ষে একাধিক প্রশাসনিক ও বাস্তবভিত্তিক যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে শিলিগুড়ি মহকুমা দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত হলেও পাহাড় ও সমতলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জনজীবন এবং প্রশাসনিক চাহিদা একেবারেই আলাদা। ফলে সমতল এলাকার বিস্তৃত জনসংখ্যার স্বার্থে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া অঞ্চল বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। লাগাতার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের চাপ সামাল দিতে পৃথক জেলা গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিধায়ক আনন্দময় বর্মন তাঁর ডেপুটেশনে বলেন, পৃথক জেলা গঠিত হলে শহর ও গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে সরাসরি সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য দূরবর্তী দপ্তরে যেতে হবে না, ফলে প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্মারকলিপিটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন এবং উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। শিলিগুড়ি মহকুমাকে পৃথক জেলা করার প্রশাসনিক, ভৌগোলিক ও আর্থিক দিকগুলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে।
উত্তরকন্যার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা করার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

