বুদ্ধ বন্দনার সুরে স্তব্ধতা, মহানন্দা পাড়ার বৌদ্ধ বিহারে কুকুরদের শান্ত উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল

নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্ধ্যা নামলেই শিলিগুড়ির মহানন্দা পাড়ায় অবস্থিত বুদ্ধ ভারতী বৌদ্ধ বিহারে দেখা যায় এক অভিনব দৃশ্য। বিহারের ভান্তে যখন বুদ্ধ বন্দনা ও মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করেন, তখন আশপাশে ঘুরে বেড়ানো কয়েকটি কুকুর নিঃশব্দে এসে বিহার চত্বরে শুয়ে পড়ে। মন্ত্রপাঠ চলাকালীন তারা আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও স্থির থাকে। প্রায় প্রতিদিনই দেখা মেলে এই দৃশ্যের, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

অনেকেই এই ঘটনাকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করলেও এর পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বুদ্ধ মন্ত্র সাধারণত ধীর, গভীর এবং ছন্দময় সুরে উচ্চারিত হয়। এই ধরনের শব্দতরঙ্গ ও কম্পন মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের মধ্যেও প্রশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

কুকুরের শ্রবণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। ফলে তারা এই মন্ত্রধ্বনিকে কোনো হুমকি হিসেবে না দেখে বরং একটি নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। এর ফলে তাদের আচরণেও স্বাভাবিকভাবেই প্রশান্তির ছাপ ফুটে ওঠে।

বিজ্ঞান বলছে, শান্ত সুর বা মন্ত্রধ্বনি শোনার সময় মস্তিষ্কে চাপ বা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। প্রাণীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তাই মন্ত্রপাঠের সময় কুকুরগুলিকে নির্ভার ও শান্তভাবে শুয়ে থাকতে দেখা অস্বাভাবিক নয়।

এছাড়াও রয়েছে অভ্যাসগত একটি কারণ। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে একই পরিবেশে বুদ্ধ বন্দনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কুকুরগুলো বুঝে গেছে যে এই সময়টিতে পরিবেশ শান্ত ও নিরাপদ থাকে। ফলে তারা এটিকে বিশ্রামের উপযুক্ত সময় হিসেবে গ্রহণ করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

স্থানীয়দের মতে, মহানন্দা পাড়ার বুদ্ধ ভারতী বৌদ্ধ বিহারে সন্ধ্যাকালীন এই দৃশ্য এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। আধ্যাত্মিক অনুভূতি কিংবা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা—যেভাবেই দেখা হোক না কেন, বুদ্ধ বন্দনার সময় কুকুরগুলোর এই শান্ত উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মনে এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয় এবং মানব ও প্রাণিজগতের সহাবস্থানের এক অনন্য বার্তা তুলে ধরে।