বাজেটের আগে শিল্পমহলের বার্তা, শিলিগুড়িতে জিএসটি ট্রাইব্যুনালের জোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদন : রাজ্য বাজেটের আগে উত্তরবঙ্গের শিল্প ও ব্যবসা ক্ষেত্রের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরব হলেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।উত্তরকন্যায় আয়োজিত প্রি-বাজেট বৈঠকে উঠে এল জিএসটি ট্রাইব্যুনাল থেকে চা শিল্পের সংকট—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবও পেশ করা হয়।
বণিকমহলের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আগামী ২০ জুন রাজ্য বাজেট পেশের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।

বৈঠকে উত্তরবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় শিলিগুড়িতে একটি জিএসটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দাবি। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে জিএসটি সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য কলকাতার উপর নির্ভর করতে হয়।

শিলিগুড়িতে ট্রাইব্যুনাল চালু হলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিও সম্ভব হবে।চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-র সম্পাদক সুমিত ঘোষ বন্ধ ও অসুস্থ চা বাগানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।

একইসঙ্গে লিজ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকির বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স-এর উত্তরবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান হর্ষ বরেলিয়া শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে আরও বেশি ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত বলেন, রাজ্য সরকার শিল্প ও ব্যবসার বিকাশে সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। শিল্পের অগ্রগতিই অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিল্পমহলের উত্থাপিত প্রতিটি দাবি ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করার দিকেও সরকার নজর দিচ্ছে বলে তিনি জানান।