ইতিহাস জানার অঙ্গীকারে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের বিশেষ আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০ জুনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরলেন বিশিষ্ট বক্তারা। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদান স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইতিহাস জানার মধ্যেই ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা দীনবন্ধু মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শনিবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে এক ব্যতিক্রমী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

“২০শে জুন—ইতিহাসের পটপরিবর্তন” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার ইতিহাস, দেশভাগের প্রেক্ষাপট এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পেছনের ঘটনাবলি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র, শিলিগুড়ির উদ্যোগে এবং সংস্কার ভারতীর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন জলপাইগুড়ি এ.সি. কলেজের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায়। তিনি ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম এবং বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশভাগ, বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির নানা অজানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানকে। বক্তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আলোচনার পাশাপাশি ছিল সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও কথনভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার এই মেলবন্ধনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—”ইতিহাস জানি, গর্ব করি, ভবিষ্যৎ গড়ি”। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সত্যনিষ্ঠ ঐতিহাসিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই শেষ হয় দিনের এই বিশেষ আয়োজন।