যোগের বার্তায় একসূত্রে বাংলা, বিশ্ব যোগ দিবসে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সকালের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ। কোথাও জঙ্গলের মাঝে বনকর্মীদের যোগচর্চা, কোথাও নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্যোগ, আবার কোথাও পুলিশকর্মী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে যোগাসনে শামিল। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি থেকে মালদা— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা।

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। সুস্থ শরীর, মানসিক প্রশান্তি এবং ইতিবাচক জীবনযাপনের বার্তা তুলে ধরতেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক দপ্তর ও সামাজিক সংগঠন এগিয়ে আসে।

জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যকর্মী, অন্যান্য কর্মচারী এবং রোগীদের আত্মীয়-পরিজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ যোগাভ্যাস কর্মসূচি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগচর্চার বিকল্প নেই। সকলকে প্রতিদিন যোগাভ্যাস করার আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে জলপাইগুড়ি বন বিভাগের উদ্যোগে মরাঘাট, দলগাঁও, রামসাঁই, নাথুয়া-সহ মোট আটটি রেঞ্জ এবং ডিভিশন অফিস প্রাঙ্গণে পালিত হয় যোগ দিবস। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার বনকর্মী অংশ নেন। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও উৎসাহে ভাটা পড়েনি। যোগাভ্যাস শেষে ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

শিলিগুড়িতে বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে পৌরনিগমের উদ্যোগে ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, জনপ্রতিনিধি, পুরনিগমের আধিকারিক, যোগ প্রশিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে যোগাসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানচর্চায় অংশ নেন। আয়োজকদের বক্তব্য, নিয়মিত যোগাভ্যাস শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমিয়ে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।

এদিকে মালদার মানিকচক থানার পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হয়। থানার আইসি, পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা একসঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনের বার্তা দেন।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, যোগ আর শুধু শরীরচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আজ সুস্থতা, শৃঙ্খলা এবং মানসিক ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। বিশ্ব যোগ দিবসে সেই বার্তাই নতুন করে পৌঁছে গেল বাংলার ঘরে ঘরে।