সুরের সাধনায় বিশ্ব সঙ্গীত দিবস, শিলিগুড়িতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশেষ আসর

নিজস্ব প্রতিবেদন : ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য, দর্শন ও মানবকল্যাণের বার্তা তুলে ধরতে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে শিলিগুড়িতে বসলো এক বিশেষ সঙ্গীত আসর।নতুন প্রজন্মকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।দেশ-বিদেশে সমাদৃত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিভিন্ন রাগ-রাগিণী, কণ্ঠ ও বাদ্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সুরের এক অনন্য সন্ধ্যার সাক্ষী হয়ে থাকলেন সঙ্গীতপ্রেমীরা।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট ও নবীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা।বিশ্ব সঙ্গীত দিবসকে সামনে রেখে মঙ্গলবার, ২৩ জুন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের ব্যবসায়ী সমিতির হলঘরে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই সঙ্গীত উৎসব। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাগিনী, সুর-সর্গম, সঙ্গম ও বিন্দু।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী বর্ণালি বসু ও বুলবুল বোস জানান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মনকে প্রশান্ত করে এবং সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাঁদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যেও ধীরে ধীরে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সেই আগ্রহকে আরও প্রসারিত করতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কৃতি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। বেদ, উপনিষদ, গীতা, রামায়ণ, মহাভারতসহ নানা শাস্ত্রের জ্ঞান, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে এই সংস্কৃতি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সেই ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা যুগ যুগ ধরে মানবিক মূল্যবোধ, নান্দনিকতা ও আত্মিক উন্নয়নের পথ দেখিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী পর্বে সুর-সর্গম ফাউন্ডেশন পরিবেশন করে দলীয় সঙ্গীত। তবলায় ছিলেন প্রতীক জোয়ারদার, হারমোনিয়ামে রণজয় ভৌমিক এবং পরিবেশিত হয় রাগ মধুবন্তী।এরপর একক কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন দেবর্ষি হোড়। তিনি গেয়েছেন রাগ ইমন। তবলায় সঙ্গত করেন বঙ্কিমচন্দ্র নাহা এবং হারমোনিয়ামে ছিলেন সৌভিক সান্যাল।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে একক তবলা পরিবেশন করে শিশু শিল্পী সুহান অধিকারী। নাগমা সহযোগিতায় ছিলেন তাঁরই পিতা বিখ্যাত তবলা শিল্পী সুবীর অধিকারী। চতুর্থ পরিবেশনায় সঙ্গম-এর পক্ষ থেকে অর্চিতা সেন ও তাঁর দল পরিবেশন করেন দলীয় কণ্ঠসঙ্গীত। হারমোনিয়ামে ছিলেন বুলবুল বোস, তবলায় প্রকাশ সেন। পরিবেশিত হয় কাজরি – “ঘির আয়ে হ্যায় বাদরিয়া”।

এরপর একক কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত শিল্পী বুলবুল বোস। তিনি পরিবেশন করেন রাগ জয়জয়ন্তী। তবলায় ছিলেন অপুর্ব ব্যানার্জি, হারমোনিয়ামে দেবিকা গুহ এবং তানপুরায় প্রিয়াংশু রায়।একক বেহালা পরিবেশন করেন সুমিত বণিক। তাঁর পরিবেশনায় ছিলো রাগ মধুবন্তী। তবলায় সঙ্গত করেন প্রতীক জোয়ারদার।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একক কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত শিল্পী বর্ণালি বসু। তিনি গেয়েছেন রাগ দেশ। তবলায় ছিলেন প্রতীক জোয়ারদার এবং হারমোনিয়ামে রাজেশ বর্মন।সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতনু চৌধুরী ও মৌমিতা আচার্য।

আয়োজকদের আশা, বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য অনেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এরফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বই কমবে না। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহুডাঙি শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের জীবন মহারাজ এবং উদয় কুমার দাস সহ আরও অনেকে।