নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, ১৬ জুলাই মহাধুমধামে পালিত হবে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।
এখন আর শুধু পুরী নয়, উত্তরবঙ্গের পাড়ায় পাড়ায়ও বাড়ছে রথ টানার উন্মাদনা।কিন্তু রথ কিংবা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিকৃতি কোথায় মিলবে?ভক্তদের সেই চাহিদা পূরণ করতেই এবার পুরী থেকে শিলিগুড়িতে এসেছে নানা আকারের জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার প্রতিকৃতি।

আগামী ১৬ জুলাই জগন্নাথদেবের পবিত্র রথযাত্রা। এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। একসময় বড় মন্দির বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন রথযাত্রা ও রথ টানার আয়োজন পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছরই বিভিন্ন এলাকায় ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে, বিশেষ করে রথের দড়ি টানার জন্য উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানাকে অত্যন্ত পুণ্যজনক কাজ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে রথ টানলে ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ হয়, জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং শুভ শক্তির বিকাশ ঘটে। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ভক্ত ও ভগবানের মিলনের প্রতীক। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভক্তি, ঐক্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে বলেও অনেকে মনে করেন। সম্ভবত এই কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাড়ায় পাড়ায় রথযাত্রা আয়োজনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—রথ কোথায় পাওয়া যাবে? জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিকৃতি কোথায় মিলবে? বাস্তবে অধিকাংশ ভক্তই এসব প্রতিকৃতি ও রথ দোকান থেকেই সংগ্রহ করেন।
এবার শিলিগুড়িতেও পুরী থেকে নিয়ে আসা হয়েছে বিপুল সংখ্যক জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিকৃতি। যাঁদের পক্ষে পুরীতে গিয়ে রথযাত্রায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের কাছে এই প্রতিকৃতিগুলি যেন ভক্তির এক বিশেষ আবেগ। অনেকেই বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই প্রতিকৃতি সংগ্রহ করে নিজেদের বাড়ি বা পাড়ার রথযাত্রায় প্রতিষ্ঠা করছেন।
শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালিবাড়ি সংলগ্ন ব্যবসায়ী মানব পাল জানান, গত কয়েক বছর ধরে তাঁরা লক্ষ্য করছেন যে পাড়ায় পাড়ায় রথ টানার উৎসাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এ বছর তাঁরা পুরী থেকে বিভিন্ন আকারের জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিকৃতি নিয়ে এসেছেন।
তিনি জানান, ৪ ইঞ্চি, ৬ ইঞ্চি, ৮ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি মাপের প্রতিকৃতি পাওয়া যাচ্ছে। এগুলির দাম শুরু হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে, আর সর্বোচ্চ মূল্য ২,৫০০ টাকা।
অন্যদিকে কাঠের রথগুলি স্থানীয় কাঠের কারিগরদের দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করানো হয়েছে। রথের দাম ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১,২৫০ টাকা, ১,৫৫০ টাকা এবং ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও একটি বড় আকারের কাঠের রথ রয়েছে, যার মূল্য ৬,৫০০ টাকা।
রথযাত্রা যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভক্তদের ভিড়। অনেকেই নিজেদের বাড়ি, মন্দির কিংবা পাড়ার আয়োজনে ব্যবহারের জন্য রথ ও জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার প্রতিকৃতি সংগ্রহ করছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং ভক্তির এই মিলনই রথযাত্রাকে আজ শুধু একটি উৎসব নয়, মানুষের আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রকাশে পরিণত করেছে।

