বিশ্ব পরিবেশ দিবস: প্লাস্টিক দূষণ রোধে বিশ্ববাসীর ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতি বছর ৫ জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতিকে রক্ষার লক্ষ্যে এই বিশেষ দিবস পালন করা হয়। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের সূচনা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়।

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম হলো বিট প্লাস্টক পল্যুশান –প্লাস্টিক দূষণকে পরাস্ত করি । প্লাস্টিক দূষণ আজ বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, সমুদ্র, বনভূমি এবং কৃষিজমিতে জমা হয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে। সামুদ্রিক প্রাণী থেকে শুরু করে স্থলজ জীবজন্তু—সবাই এর ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতিমধ্যেই মানুষের খাদ্য, পানীয় জল এবং বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্ণায়ন, বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং দূষণের মতো সমস্যাগুলি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অস্বাভাবিক আবহাওয়া, খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে যে প্রকৃতিকে অবহেলা করার সুযোগ আর নেই।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের শুধু একটি দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকতে বলে না, বরং প্রতিদিন পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করার আহ্বান জানায়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ, জল সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে।

প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম শর্ত। বিশ্ব পরিবেশ দিবস সেই বার্তাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।