সৃজনশীল চর্চায় আত্মতৃপ্তি: শিলিগুড়ির ‘কলাঙ্গন’-এ নারীদের বাচিক সাধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসারের ব্যস্ততা সামলে অনেক মহিলাই সময় কাটাতে চান ইতিবাচক ও সৃজনশীল কাজে, যেখানে নেই পরনিন্দা বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা। সেই চাহিদা থেকেই কবিতা, আবৃত্তি ও বাচিক শিল্পের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে বহু নারীর। এই আগ্রহকেই কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে ২০১৯ সাল থেকে কাজ করে চলেছে ‘কলাঙ্গন’ নামের একটি বাচিক শিল্পী গোষ্ঠী।

শুরুটা হয়েছিল মাত্র পাঁচ জন মহিলাকে নিয়ে। ধীরে ধীরে সেই পরিসর বেড়ে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। এই গোষ্ঠীর মূল উদ্যোক্তা ও প্রেরণার উৎস শিলিগুড়ির রবীন্দ্রনগর গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা এবং বাচিক শিল্পী পৃথা সেন। তাঁর উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে এই সৃজনশীল মঞ্চ।

শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় পৃথা সেনের বাসভবনেই প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার তিন ঘণ্টা করে নিয়মিত বাচিক শিল্পের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এখানে অংশগ্রহণকারী মহিলারা কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের মনকে ইতিবাচক রাখতে চেষ্টা করেন।

পৃথা সেনের মতে, “মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা গড়ে তুলতে কবিতার ভূমিকা অনন্য।” শুধু কবিতা নয়, তিনি সংগীত ও নাট্যচর্চার প্রতিও সমানভাবে অনুরাগী। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যারা জীবনের সংগ্রামে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাঁদের নতুন করে জীবনমুখী করে তুলতে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বর্তমানে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে ‘কলাঙ্গন’-এ চলছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিয়ে বিশেষ অনুশীলন ও আলোচনা। সব মিলিয়ে, এই গোষ্ঠী শুধুমাত্র একটি আবৃত্তির মঞ্চ নয়, বরং নারীদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক জীবনের এক অনন্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে।