সাধু থেকে বিধায়ক, এবার নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে উৎপল ব্রহ্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্ন্যাসীর জীবন থেকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে এসে এবার সমাজ সংস্কারের কাজে আরও সক্রিয় হতে চান নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক স্বামী উৎপল ব্রহ্মচারী মহারাজ। তাঁর মূল লক্ষ্য, যুব সমাজকে মাদকাসক্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং এলাকাজুড়ে বেড়ে ওঠা নেশার আস্তানার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে মদ, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ— দুই দিকেই তিনি জোর দিতে চান।

একজন সন্ন্যাসী হয়েও কেন তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে এলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে উৎপল ব্রহ্মচারী মহারাজ জানান, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাঁকে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করেছে। তাঁর কথায়, “তোষণের রাজনীতি, দুর্নীতি বৃদ্ধি এবং রাজ্যের সার্বভৌম মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে আর নীরব থাকা সম্ভব ছিল না। তাই মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সনাতন সংস্কৃতি রক্ষা করাও আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।”

তিনি এই জয়কে সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। রাস্তাঘাট সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষার প্রসার এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে ছড়িয়ে পড়া মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে উৎপল মহারাজ ভারত সেবাশ্রম সংঘ-এর একজন সক্রিয় সন্ন্যাসী ছিলেন। সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ-এর আদর্শকে সামনে রেখেই তিনি বিধায়ক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। ফোনে তিনি ‘খবরের ঘন্টা’-কে জানান, মানুষের পাশে থেকে সমাজকল্যাণমূলক কাজই হবে তাঁর আগামী দিনের প্রধান অঙ্গীকার।