ওষুধ বিক্রিই জীবিকা, ভাওয়াইয়া গানই জীবনের সাধনা — এক হাজারেরও বেশি গান রচনা জগন্নাথ রায়ের

Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দিনে জীবিকার তাগিদে বিক্রি করেন আয়ুর্বেদিক ওষুধ, আর অবসর পেলেই কলমে ও সুরে ফুটিয়ে তোলেন উত্তরবঙ্গের মাটির গন্ধ। প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভাওয়াইয়া সঙ্গীত রচনা ও সুরারোপ করে চলেছেন শিলিগুড়ির শিল্পী জগন্নাথ রায়। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই এক হাজারেরও বেশি গান সৃষ্টি করেছেন তিনি।শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন মাঝাবাড়ির বাসিন্দা জগন্নাথ রায় গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য ভাওয়াইয়া সঙ্গীত নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি শুধু গীতিকার নন, নিজের লেখা গানে নিজেই সুরারোপ করেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ দোতারা শিল্পী হিসেবেও তিনি পরিচিত।

ভালোবাসা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য সচেতনতামূলক গান। নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পালস পোলিও কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা-সহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তাঁর গানের মূল উপজীব্য। জগন্নাথ রায়ের দাবি, এ পর্যন্ত তাঁর রচিত গানের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি।

তবে শুধুমাত্র সঙ্গীতচর্চার ওপর নির্ভর করে সংসার চালানো সম্ভব নয়। তাই জীবিকার প্রয়োজনে তিনি আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রির কাজ করেন। কর্মব্যস্ততার মাঝেও উত্তরবঙ্গের মাটির গানকে বাঁচিয়ে রাখার এই নিরলস প্রচেষ্টা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে।

উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জগন্নাথ রায়ের এই দীর্ঘ সাধনা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করছেন এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।