সম্মাননায় ভরা ঘর, অসুস্থতার মাঝেও সাহিত্য ও সংগীতে অবিচল নির্মলেন্দু দাস ও গোপা দাস

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া এলাকার শরৎচন্দ্র পল্লীতে বিজ্ঞানী ও কবি নির্মলেন্দু দাসের বাড়িতে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় সাজানো রয়েছে অসংখ্য ট্রফি, সার্টিফিকেট ও স্মারকচিহ্ন। নির্মলেন্দু দাস, তাঁর স্ত্রী বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী গোপা দাস এবং বৃদ্ধা মা মুকুল দাস—তিনজনই তাঁদের নিজ নিজ প্রতিভা ও অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে এই সম্মাননাগুলি অর্জন করেছেন।

এর মধ্যে বহু স্বীকৃতি এসেছে কলকাতার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য মঞ্চ থেকে।সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত পরপর তিনটি অনুষ্ঠানে নির্মলেন্দু দাস ও গোপা দাস বিশেষ সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মৌলালী যুব কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রতিভা সন্ধানে’ ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫।

এছাড়াও কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এবং হুগলির ধনিয়াখালিতে ‘মাতৃভূমি’ সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মান জানানো হয়।

প্রতিটি অনুষ্ঠানেই কবি নির্মলেন্দু দাস যেমন সম্মানিত হয়েছেন, তেমনি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গোপা দাসও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত কলম শিল্পী ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে গোপা দাসকে ‘বেস্ট সিঙ্গার এক্সিলেন্স’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে ধনিয়াখালির অনুষ্ঠানে তিনি লাভ করেন ‘সঙ্গীত সুধাকর’ সম্মান।বর্তমানে নির্মলেন্দু দাস ও গোপা দাস দু’জনেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন। তবে অসুস্থতার মাঝেও তাঁদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা থেমে নেই। কবিতা লেখা, সংগীতচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁরা এখনও নিয়মিতভাবে যুক্ত।

তাঁদের মতে, সাহিত্য ও সংগীতের অনুশীলনই তাঁদের মানসিকভাবে শক্তি জোগায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের এই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সাধনার ফলে নির্মলেন্দু দাস ও গোপা দাস ইতিমধ্যেই বহু গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁদের এই নিরন্তর সাহিত্য-সংস্কৃতি সাধনা সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।