প্রবাসে থেকেও শিকড়ের টান— বেঙ্গালুরুর দাশগুপ্ত পরিবারের পয়লা বৈশাখ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :পয়লা বৈশাখ মানেই বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য আর নতুন করে শুরু করার আনন্দ। সেই অনুভূতিকেই হৃদয়ে ধারণ করে, বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালি দাশগুপ্ত পরিবার এ বছর এক অনন্য উপায়ে তুলে ধরলেন তাঁদের নববর্ষ উদযাপন। দূরে থেকেও তাঁরা ভুলে যাননি বাংলার সংস্কৃতি, বরং নাটক, সঙ্গীত, কবিতা আর পারিবারিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন তাঁদের শিকড়ের টান।

এই বিশেষ উদ্যোগে সামনে এসেছেন কৌশিক দাশগুপ্ত, তাঁর স্ত্রী ডঃ শীলা দাশগুপ্ত, পুত্র সাই ডঃ কৌস্তভ দাশগুপ্ত এবং ডঃ কুশল দাশগুপ্ত। তাঁদের সম্মিলিত প্রয়াসে তৈরি হয়েছে এক হৃদয়ছোঁয়া ভিডিও, যেখানে ধরা পড়েছে বাঙালির সংস্কৃতি, ভালোবাসা আর একসঙ্গে থাকার আনন্দ।

পরিবারের আন্তরিক কথোপকথন, সুরেলা গান, আবৃত্তি এবং একসঙ্গে বসে কাটানো মুহূর্ত— সব মিলিয়ে এই আয়োজন যেন এক টুকরো বাংলা, যা ভৌগোলিক দূরত্বকেও হার মানায়।
প্রবাসে থাকলেও বাংলার প্রতি তাঁদের টান যে কত গভীর, তা স্পষ্ট এই উদ্যোগে।

বরং বাংলার বাইরে থেকেই তাঁরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার গুরুত্ব। যেখানে আজকের দিনে বাংলার ভেতরেই অনেক সময় পরনিন্দা, পরচর্চা আর পরশ্রীকাতরতার চর্চা দেখা যায়, সেখানে দাশগুপ্ত পরিবারের এই ইতিবাচক ও সৃজনশীল প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিলিগুড়ির স্মৃতি ও শিকড়ের বন্ধন। যদিও বর্তমানে তাঁরা সেখানে বসবাস করেন না, তবুও তাঁদের মন পড়ে থাকে সেই প্রিয় শহরে, মাতৃভূমির টানে।

পয়লা বৈশাখের দিন দাশগুপ্ত পরিবার তাঁদের এই সৃজনশীল কাজের নমুনা পাঠিয়েছে ‘খবরের ঘন্টা’-র কাছে। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং এক আবেগ— যা মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের রূপ বদলাতে পারে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত ভালোবাসা, মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি চিরন্তন।
দাশগুপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা— “শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।”