নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৬ সালের ফলাহারিণী অমাবস্যা পালিত ১৬ মে, শনিবার। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিকেই ফলাহারিণী অমাবস্যা বা ফলহারিণী কালীপুজোর দিন হিসেবে মানা হয়। বিভিন্ন পঞ্জিকা অনুসারে এদিন ভোর থেকেই অমাবস্যা তিথি শুরু হয়েছে এবং ১৭ মে মধ্যরাত পর্যন্ত এর প্রভাব থাকবে।

“ফলাহারিণী” শব্দের অর্থ — যিনি কর্মফল হরণ করেন।
অর্থাৎ, মানুষের জীবনের অশুভ কর্মফল, পাপ, দুঃখ ও দুর্ভাগ্য দূর করে শুভফল দান করেন মা কালী। এই কারণেই জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় দেবী কালীর বিশেষ রূপ “ফলহারিণী কালী” হিসেবে পূজিত হন।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে ফলাহারিণী অমাবস্যার গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। মনে করা হয়—এই দিনে মা কালী ভক্তদের পাপ ও অশুভ শক্তি দূর করেন।সংসারের দুঃখ, বাধা ও অশান্তি থেকে মুক্তির আশীর্বাদ মেলে।মনস্কামনা পূরণের জন্য এই তিথিতে বিশেষ পুজো করা হয়।জীবনের নেতিবাচক কর্মফল কাটিয়ে শুভফল লাভের প্রার্থনা করা হয়।
এই তিথির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা।দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ফলাহারিণী অমাবস্যার রাতে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস মা সারদা দেবী-কে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন। রামকৃষ্ণ ভাবধারায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে এই তিথি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।
এই দিনে সাধারণত—মা কালীর কাছে বিভিন্ন ফল নিবেদন করা হয়,উপবাস ও জপ করা হয়,দান-পুণ্য ও দরিদ্রসেবাকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়,অনেকেই নিজের প্রিয় ফল মা-কে নিবেদন করে মনোস্কামনা ব্যক্ত করেন।তারাপীঠসহ বাংলার বহু শক্তিপীঠে ফল দিয়ে দেবীকে সাজানোর বিশেষ রীতি রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী—
অমাবস্যা তিথি শুরু: ১৬ মে ২০২৬, ভোর ৫টা ১৩ মিনিট
অমাবস্যা তিথি শেষ: ১৭ মে ২০২৬, রাত ১টা ৩১ মিনিটশাস্ত্র মতে, ফলাহারিণী অমাবস্যা শুধু পূজার দিন নয়, আত্মশুদ্ধিরও দিন।
বিশ্বাস করা হয়—
এই দিনে সত্যিকারের ভক্তিভাবে প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি লাভ হয়,সংসারের অশুভ শক্তি দূর হয়,
শুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়,
আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়।
ফলাহারিণী অমাবস্যা তাই বাংলার শাক্তধর্ম ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র তিথি হিসেবে আজও সমান শ্রদ্ধায় পালিত হয়ে আসছে।

