অসুস্থতাকে জয় করে সাহিত্য সাধনায় দৃষ্টান্ত শিলিগুড়ির দাস পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া শরৎ পল্লীর এক শান্ত সাহিত্যিক পরিবেশে রবিবার এক অনন্য সাহিত্য আসরের সাক্ষী থাকলেন সাহিত্যপ্রেমীরা। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেও বিশিষ্ট কবি ও বিজ্ঞানমনস্ক সাহিত্য সাধক নির্মলেন্দু দাস, তাঁর স্ত্রী সঙ্গীত শিল্পী গোপা দাস এবং ১০১ বছর বয়সী কবি মুকুল দাস সাহিত্য-সংস্কৃতির সাধনা অব্যাহত রেখে এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দাস পরিবারের পরিচালিত ‘কাব্য নিকেতন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সভা। অনুষ্ঠানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করা হয় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়কে। একইসঙ্গে আসন্ন নজরুল জয়ন্তীকে সামনে রেখে কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর কবিতা, সঙ্গীত ও আবৃত্তির আবহে নির্মলেন্দুবাবুর সাহিত্যকক্ষ যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমীরা স্বরচিত কবিতা পাঠের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও দ্বিজেন্দ্রগীতির পরিবেশনায় বিশেষভাবে মন জয় করেন সঙ্গীত শিল্পী গোপা দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডঃ দীপ্তি মুখার্জি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি অলোক চক্রবর্তী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামপুরের শিক্ষক ও লেখক সর্বাশীষ পাল।

সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন নির্মলেন্দু দাস। এদিন ১০১ বছর বয়সী কবি মুকুল দাসও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে রচিত নিজের কবিতা পাঠ করে সকলকে মুগ্ধ করেন। পাশাপাশি মুকুল দাসকে উৎসর্গ করে লেখা একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি অলোক চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠে অংশ নেন অর্চনা মিত্র, চিত্রা ভৌমিক, কনিকা দাস, শিপ্রা পাল, সুনন্দা ভাদুড়ি, কৃষ্ণা দত্ত, শম্পা পাল, নারায়ণ সরকার, শ্রাবন্তী মিত্র, সুমনা চক্রবর্তী, সংঘমিত্রা চন্দ, মঞ্জু সরকার, পল্লবী পাল ও বঙ্কিম সরকার সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বাচিক শিল্পী সুদীপ চৌধুরী ও কৃষ্ণেন্দু দাস।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কূপনের মাধ্যমে লটারি আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রথম পুরস্কার পান চিত্রা ভৌমিক, দ্বিতীয় হন বঙ্কিম সরকার এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করেন সুদীপ চৌধুরী।

নির্মলেন্দু দাস জানান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাই তাঁদের পরিবারের মানসিক শক্তি ও ভালো থাকার অন্যতম অবলম্বন।