নিজস্ব প্রতিবেদক : পাওয়ার লিফটিংয়ের কঠিন প্রতিযোগিতার মঞ্চে দার্জিলিং জেলার খেলোয়াড়রা ফের নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিলেন। সারা দেশের প্রায় ১০–১১টি পাওয়ার লিফটিং সংস্থার মধ্যে অন্যতম কঠিন ও স্বীকৃত পাওয়ার লিফটিং ইন্ডিয়ার আয়োজনে অল বেঙ্গল পিআই চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয় গত ১০ থেকে ১২ এপ্রিল, বর্ধমানে।

সাব-জুনিয়র, জুনিয়র, সিনিয়র ও মাস্টার বিভাগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।
এই চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত মহিলা প্রতিযোগীরা নিজেদের শক্তি ও দক্ষতার পরীক্ষা দেন।
তাঁদের মধ্যেই একজন প্রতিযোগী শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস ও ডেডলিফটে সম্মিলিত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসন্ন ন্যাশনাল পিআই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য দার্জিলিং জেলার ক্রীড়ামহলে গর্বের মুহূর্ত এনে দিয়েছে।
দার্জিলিং জেলার অন্যান্য পদকজয়ীরাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। জ্যোৎস্না, সিনিয়র ৫৭ কেজি বিভাগে তৃতীয় স্থান, শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী মাস্টার-১ গ্রুপে ৬৩ কেজি বিভাগে দ্বিতীয় স্থান, অলকানন্দা পাল মাস্টার-১ গ্রুপে ৬৯ কেজিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
এছাড়াও অনিরুদ্ধ মল্লিক সিনিয়র বিভাগে দ্বিতীয়, দীপা পাল সিনিয়র ৭৬ কেজি বিভাগে দ্বিতীয় এবং নিকিতা গুরুং জুনিয়র ৬৩ কেজি বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেন।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন পায়েল বর্মনও। শিলিগুড়ির শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী, যিনি মাস্টার ওয়ান বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন, জানান যে এতদিন তাঁরা মূলত স্ট্রেংথ লিফটিং করলেও পাওয়ার লিফটিংয়ে এটি ছিল তাঁর প্রথম অভিজ্ঞতা। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী ও পায়েল বর্মন উভয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিলিগুড়িতে প্রায় ১৫০০ বর্গফুট জায়গা পেলে তাঁরা একটি উন্নতমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জিম গড়ে তুলতে চান। এর মাধ্যমে এই ধরনের খেলাধুলার প্রসার ঘটানো এবং তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যচর্চায় উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
এই উদ্যোগ সফল করতে তাঁরা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।দার্জিলিং জেলার এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে দিচ্ছে, সঠিক সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে এখানকার খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চেও উজ্জ্বল সাফল্য এনে দিতে সক্ষম।

