নিজস্ব প্রতিবেদন : মুখের ভিতরে ঠোঁট বা গালের পাশে দীর্ঘক্ষণ খইনি, গুটখা কিংবা জর্দা রেখে খাওয়ার প্রবণতা বর্তমানে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের। এর ফলে দাঁতের মাড়ি, জিহ্বা ও মুখগহ্বরে ঘা বা আলসারের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না করিয়ে বিষয়টি অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে ক্যান্সারের দিকেও এগিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করলেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট দন্ত সার্জেন ডাঃ সোমজিৎ চ্যাটার্জী।

মঙ্গলবার শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোডের সেবক মোড় সংলগ্ন শিলিগুড়ি ওরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ার ইমপ্লান্ট সেন্টার ( যোগাযোগ নম্বর :7679303359) চত্বরে খবরের ঘন্টার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর চেম্বারে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত বহু রোগী আসছেন।
শুধু খইনি বা গুটখাই নয়, অতিরিক্ত সুপারি ও জর্দা সেবনের ফলেও দাঁতের মাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা এমন অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন, যেখানে ঠিকমতো মুখ খুলতেও সমস্যা হচ্ছে।
দন্ত বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে চকোলেট, ফাস্ট ফুড এবং বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দাঁত, মাড়ি ও মুখের স্বাস্থ্যের উপর।
চকোলেট বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাত খাবারের কারণে দাঁতের ফাঁকে ব্যাকটেরিয়া জমে বাসা বাঁধছে। সেখান থেকে তৈরি হওয়া টক্সিন ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দিচ্ছে এবং পরবর্তীতে দাঁতে ক্ষয় ও তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠছে।
ডাঃ সোমজিৎ চ্যাটার্জী অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, শিশুদের নিয়মিত ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যা দাঁতের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সুস্থ দাঁত ও মুখগহ্বরের জন্য প্রতিদিন অন্তত দু’বার দাঁত মাজা, নুন মেশানো গরম জলে কুলকুচি করা এবং ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার রাখার উপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

