নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রয়াত সমাজসেবী ও শিল্পোদ্যোগী সচিত্র পাল ওরফে কালু পালের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া এলাকায় ব্যাপক নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের হাতে খিচুড়ি ও লাবড়া তুলে দেওয়া হয়।

সচিত্র গ্রুপ অফ কোম্পানিজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও ২২ মে এই বিশেষ সেবামূলক কর্মসূচি পালিত হয়। হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সংলগ্ন সেবক রোড, শালুগাড়া, পরেশনগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে গাড়ির মাধ্যমে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে এদিন খিচুড়ি ও লাবড়া বিতরণ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ৩৫ বছর আগে ২২ মে আততায়ীদের হামলায় মৃত্যু হয়েছিল কালু পালের। তাঁর স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই প্রতিবছর এই মানবসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সচিত্র গ্রুপ অফ কোম্পানিজের কর্ণধার তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী মৃণাল পাল ওরফে মনা জানান, কালু পাল খিচুড়ি অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তাই তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বিশেষ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এদিন সকালে হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে কালু পালের মূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি এম অ্যান্ড সি আয়রন চত্বরে তাঁর নতুন একটি মূর্তিও স্থাপন করা হয়। সেখানে মৃণাল পাল সহ অন্যান্যরা প্রয়াত সমাজসেবীর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শুক্রবার ভোররাত থেকেই বহু কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বিশাল পরিসরে খিচুড়ি ও লাবড়া তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এলাকার বহু শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ এদিন নিজেদের বাড়িতে রান্না না করে এই খাদ্য গ্রহণ করেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে দ্রুত খাবার পৌঁছে দিতে বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, শিল্প কারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কালু পাল সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। মৃত্যুর ৩৫ বছর পরেও তাঁর স্মৃতি আজও অমলিন হয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের মনে। এদিন সকলেই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন।

