বিদ্রোহ ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা নিয়ে নজরুল জয়ন্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বাঙালি সমাজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে পালন করে নজরুল জয়ন্তী। এ বছর ২৫ মে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তী।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা ও সমাজচিন্তায় তাঁর অবদান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তিনি যেমন বিদ্রোহের কবি, তেমনই মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম কণ্ঠস্বর।

হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে মিলনের আহ্বান জানিয়ে নজরুল লিখেছিলেন—
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।”আবার মানবতার জয়গান গেয়ে তিনি বলেছিলেন—
“গাহি সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”

নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতে যেমন প্রতিবাদের আগুন ছিল, তেমনই ছিল প্রেম, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী। তাঁর বিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী” আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা জোগায়। একই সঙ্গে শ্যামাসংগীত, ইসলামি গান, কীর্তন ও গজলে তিনি যে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

নজরুল শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মিলেমিশে রয়েছে ইসলামি সংস্কৃতি ও হিন্দু ঐতিহ্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ। তাই বর্তমান সময়েও তাঁর আদর্শ সমাজকে ঐক্য ও সহমর্মিতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়।

নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাহিত্য মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। কবির গান, কবিতা ও দর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে বিদ্রোহ, মানবতা ও সম্প্রীতির সেই অমর বার্তা।