নিজস্ব প্রতিবেদন : নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন করে নিজেদের সুস্থ ও সক্রিয় রাখছে একঝাঁক কিশোরী ফুটবলার। তাদের বক্তব্য, অতিরিক্ত মোবাইলের নেশা থেকে বেরিয়ে এসে মেয়েদের আরও বেশি করে খেলার মাঠে সময় দেওয়া উচিত। কারণ খেলাধুলা শুধু শরীর নয়, মন ও চোখকেও ভালো রাখে। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটডোর গেমস অত্যন্ত জরুরি বলেও তারা মনে করছে।

এই ফুটবল কাপে অংশ নিতে আসা কয়েকজন কিশোরী জানায়, বর্তমানে অনেকেই মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করছে। মোবাইল প্রয়োজন হলেও তার ব্যবহার সীমিত হওয়া দরকার। মাঠে খেলাধুলা করলে শরীর ও মন সতেজ থাকে, পাশাপাশি পড়াশোনাতেও মনোযোগ বাড়ে।
শিলিগুড়ির শক্তিগড়ে উজ্জ্বল সংঘের মাঠে গত ২২ মে শুরু হয়েছিল উত্তরবঙ্গ ফুটবল কাপ প্রতিযোগিতা। রবিবার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই প্রতিযোগিতা। একদিকে অনুষ্ঠিত হয় মহিলা ফুটবল প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে ভেটারেন্স পুরুষদের ফুটবল ম্যাচ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু খেলোয়াড় এতে অংশগ্রহণ করেন।
মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় শক্তিগড় ফুটবল অ্যাকাডেমি এবং রানার্স হয় উত্তর দিনাজপুরের নন্দাঝাড় ছাত্র সমাজ। অন্যদিকে ভেটারেন্স বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে মঞ্জিত একাদশ এবং রানার্স হয় ডুয়ার্স রাইনো। মহিলা বিভাগে ফেয়ার প্লে ট্রফি পায় ময়নাগুড়ির ইয়ং স্টার ফুটবল অ্যাকাডেমি এবং ভেটারেন্স বিভাগে ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করে শিলিগুড়ির কোচি ভেটারেন্স।
এই ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে “শিলিগুড়ি এন্ড স্মাইল সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি”। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ফুটবল প্রশিক্ষক নবকুমার বসাক জানান, শুধু মোবাইল আসক্তি নয়, সমাজের বিভিন্ন খারাপ নেশা থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতেই তাঁরা গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন।
তিনি সকল অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, সন্তানদের শুধু স্কুলে পাঠালেই হবে না, নিয়মিত খেলাধুলার জন্য মাঠেও পাঠাতে হবে।এদিন উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শিলিগুড়ি শাখার সহ-সভাপতি রাজু সাহা। তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রস্তাব থাকবে যাতে ছেলেমেয়েদের মোবাইল আসক্তি কমিয়ে আরও বেশি করে মাঠমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফাইনাল ম্যাচের পর বিজয়ী ও রানার্স দলগুলির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা মাঠ চত্বর।

