রথযাত্রা মানে ভগবানের ঘরে ঘরে আগমন: শ্রীনরোত্তম গৌড়ীয় মঠে উৎসবের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদন : রথের দড়িতে শুধু কাঠের রথ নয়, টানা হয় ভক্তির বন্ধনও। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মানবতা, সমতা ও ঈশ্বরপ্রেমের বার্তা বহন করে। শিলিগুড়ির শ্রীনরোত্তম গৌড়ীয় মঠে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মহোৎসব।

নামসংকীর্তন, মহাযজ্ঞ, রথযাত্রা ও মেলার আয়োজন ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ তুঙ্গেআসন্ন রথযাত্রা ও উল্টো রথ উপলক্ষে শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রীনরোত্তম গৌড়ীয় মঠে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মঠ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা, মহাযজ্ঞ, হরিনাম সংকীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং মেলাকে কেন্দ্র করে ভক্তসমাগমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

মঠের অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী ভক্তিনিলয় জনার্দন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, প্রেম ও মানবতার মহামিলন। জগন্নাথদেব যখন রথে চড়ে ভক্তদের মাঝে আসেন, তখন তিনি সকল মানুষের কাছে সমানভাবে তাঁর করুণা ও আশীর্বাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। জাতি, বর্ণ, ধর্ম বা আর্থিক অবস্থানের কোনও ভেদাভেদ সেখানে থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, রথ মানুষের জীবনের প্রতীক এবং ভগবান সেই জীবনের চালিকাশক্তি। জীবনের রথকে সৎপথে পরিচালিত করে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর শিক্ষাই রথযাত্রার মূল বার্তা। তাই এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটে।

মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ পূজা, নামযজ্ঞ, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি উল্টো রথ পর্যন্ত চলবে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তিমূলক পরিবেশনা। ভক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য থাকবে মহাপ্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থাও।

মহারাজ সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রথের দড়ি টানা মানে শুধু একটি রথকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নয়, নিজের অন্তরের ভক্তিকে জাগিয়ে তোলা। জয় জগন্নাথের ধ্বনিতে মানবতার জয়গানই হোক এই রথযাত্রার মূল সুর।”

জয় জগন্নাথের নামসংকীর্তন ও ভক্তির আবহে শিলিগুড়ির এই প্রাচীন মঠে রথযাত্রা উৎসব এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও জনসম্পৃক্ততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী ভক্তমহল।