নিজস্ব প্রতিবেদন :
ডুয়ার্সের বানারহাট এলাকার একটি চা বাগানে যক্ষ্মা আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নীড । সংস্থার পক্ষ থেকে সমাজসেবী পিন্টু ভৌমিক এবং তাঁর সংগঠনের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে চা বাগানের যক্ষ্মা আক্রান্তদের কাছে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ বানারহাটের চা বাগানে ১৫ জন যক্ষ্মা রোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী। বিতরণ করা হয় সয়াবিন, ছোলা, ডালিয়া, বাদাম, সাবুদানা, মুসুর ডাল, গুড়, মিক্সড ডালসহ একাধিক খাদ্যদ্রব্য, যা রোগীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্স সোনালী সামন্ত , বানারহাট বয়েজ হাইস্কুলের শিক্ষিকা সুকন্যা আচার্য বসু এবং বানারহাট স্টেট প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিতবাবু সহ আরও অনেকে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্স সোনালী সামন্ত জানান, যক্ষ্মা রোগীদের জন্য সরকার নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করছে। তবে শুধুমাত্র ওষুধে এই রোগ সম্পূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়—তার সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘নিশ্চয় মিত্র’ প্রকল্পের ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নিড এই উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় মানুষজন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের উদ্যোগ রোগীদের সুস্থতার পথে এগিয়ে যেতে বিশেষ সহায়তা করবে।
সমাজসেবী পিন্টু ভৌমিক জানান, আগামী দিনেও এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আরও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের সচেতন মানুষদের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা এগিয়ে এসে চা বাগানের যক্ষ্মা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান।
মানবিকতার এই উদ্যোগ ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে—যেখানে সমাজের মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশা জাগাচ্ছেন নতুন জীবনের।

