চিকিৎসকদের স্ট্রেসমুক্ত রাখার প্রয়াস: ধ্যান-প্রাণায়ামে নতুন বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চিকিৎসক পেশা এমনই একটি ক্ষেত্র, যেখানে দায়িত্ব ও চাপ প্রায় সবসময়ই সঙ্গী হয়ে থাকে। হঠাৎ জরুরি রোগী সামলানো, দীর্ঘ সময় কাজের মধ্যে থাকা, পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া—এই সমস্ত কারণেই চিকিৎসকদের জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই এই চাপ কাটিয়ে নিজেকে সুস্থ ও স্থির রাখতে ধ্যান ও প্রাণায়ামের গুরুত্ব আজ বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।
সেই লক্ষ্যেই সোমবার, ১৩ এপ্রিল, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সংলগ্ন ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং’-এর গোল মন্দিরে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ ধ্যান ও প্রাণায়াম শিবিরের। সেখানে সদ্য চিকিৎসক হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ নেন এবং মনকে শান্ত রাখার বিভিন্ন কৌশল অনুশীলন করেন। এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক চন্দন দাসও।
চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা যায় এবং ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে স্ট্রেসমুক্ত থাকা সম্ভব—এই বিষয়গুলিই এদিন হাতে-কলমে শেখানো হয় অংশগ্রহণকারীদের। ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়মিত চর্চা যে মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক, সে বিষয়ে সচেতন করা হয় সকলকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কোচবিহারের জামালদহের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পঞ্চপান্ডব’ এবং সমাজসেবী মৃন্ময় ঘোষের উদ্যোগে প্রতি বছর বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী আর্থিক বাধা অতিক্রম করে চিকিৎসা শিক্ষায় সাফল্য অর্জন করছেন। সমাজের প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে এসে আজ তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন।
এই শিবিরে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছিলেন—সুফল মণ্ডল (আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ), ব্রজেশ্বর রায় (এইমস, গৌহাটি), রাজাবাবু লস্কর (রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ), ইন্দ্রজিৎ রায় (উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ), হাসান আলি (রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ), আবু তাহের (কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ), কূপন রায় (তৃতীয় বর্ষ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ), ভাদু মণ্ডল (তৃতীয় বর্ষ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ) এবং সোমনাথ পাল (তৃতীয় বর্ষ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ)।
এদের মধ্যেই বিশেষ উল্লেখযোগ্য কূপন রায়, যিনি কোচবিহারের ছিটমহল অঞ্চল থেকে প্রথম চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। অন্যদিকে ভাদু মণ্ডল, যার বাবা-মা বিড়ি শ্রমিক, চরম আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ভবিষ্যতে এই সকল নবীন চিকিৎসকদের লক্ষ্য একটাই—সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ধ্যান-প্রাণায়ামের এই উদ্যোগ তাঁদের সেই পথচলাকে আরও সুসংহত ও মানসিকভাবে দৃঢ় করে তুলবে বলেই মনে করছেন। আর্ট অফ লিভিং এর আশ্রম যা স্থানীয়ভাবে গোল মন্দির নামে পরিচিত, সেই আর্ট অফ লিভিং এর তরফে মেন্টর অনুরাগ চন্ডাক,বিনোদ আগরওয়ালা, ঝুমা প্রামাণিক, রাজীব চৌধুরী, অজিত দাস প্রমুখ এদিনের সেই অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন