নিজস্ব প্রতিবেদন : দার্জিলিং পাহাড়ে যখন দীর্ঘদিন ধরে বনধ, চারদিকে আতঙ্ক আর অস্থিরতা—কখনও গুলির শব্দ, কখনও বিস্ফোরণের খবর—ঠিক সেই সময়েও এক কিশোর থেমে থাকেনি। বই-খাতা হাতে সে এগিয়ে চলেছে নিজের লক্ষ্যের দিকে। প্রায় দশ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে তাকে পৌঁছাতে হত প্রাইভেট পড়তে। চারপাশে ভয় আর অনিশ্চয়তা থাকলেও তার চোখ ছিল শুধু স্বপ্নপূরণের পথে।

সেই কিশোর কৌশিক বড়ুয়া আজ ২৫ বছরের এক প্রতিভাবান যুবক। সম্প্রতি সে ভারতের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট বেঙ্গালুরুতে এমবিএ পড়ার সুযোগ পেয়েছে—যা অর্জন করা সহজ নয়। তার এই সাফল্যে গর্বিত শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মানুষ।
গত পয়লা মে শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ায় অবস্থিত বৌদ্ধ বিদর্শন ধ্যান আশ্রমে কৌশিককে সংবর্ধনা জানানো হয়। বর্তমানে তিনি পুনেতে একটি সংস্থায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত। ভবিষ্যতে এমবিএ সম্পন্ন করে আইটি বা সফটওয়্যার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৌশিক, যাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
শিলিগুড়িতে জন্ম হলেও কৌশিকের শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কেটেছে দার্জিলিংয়ে। তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবার, শিক্ষক এবং বন্ধুদের অবিরাম সমর্থন। বাবা কনকরঞ্জন বড়ুয়া, মা গোপা বড়ুয়া এবং জ্যেঠা অলোকরঞ্জন বড়ুয়া, জ্যেঠিমার উৎসাহ তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে কৌশিক গৌতম বুদ্ধের দর্শনে অনুপ্রাণিত। জীবনের কঠিন সময়েও কীভাবে মানসিক শক্তি ধরে রাখা যায়, সেই দর্শন থেকেই তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান এআই যুগে প্রযুক্তির প্রভাব, সম্ভাবনা এবং সাইবার প্রতারণা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও তিনি সচেতন মতামত দিয়েছেন।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প জানতে দেখতে থাকুন খবরের ঘন্টা ফেসবুক পেজ,ইউ টিউবের সম্পূর্ণ ভিডিও।

