নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবারের ফলাফল কার্যত আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তার থেকেও বড় সাফল্য এবার পেয়েছে বিজেপি—বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। পাহাড় থেকে ডুয়ার্স, কোচবিহার থেকে মালদা—প্রায় সর্বত্রই বিজেপির দাপট চোখে পড়ার মতো।

রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে উত্তরবঙ্গে রয়েছে ৫৪টি কেন্দ্র, যা ৮টি জেলায় বিস্তৃত। এই অঞ্চলই এবারের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের মূল ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দার্জিলিং জেলার ৫টি আসন—দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া ও শিলিগুড়ি—সবকটিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। একইভাবে জলপাইগুড়ির ৭টি আসনেও পূর্ণ দখল বজায় রেখেছে তারা। ধূপগুড়িতে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়।
কালিম্পং জেলার একমাত্র আসনটিও বিজেপির দখলে গেছে। কোচবিহারের ৯টি আসনের মধ্যে একমাত্র সিতাই বাদে বাকি সব আসনই বিজেপির ঝুলিতে। আলিপুরদুয়ার জেলার ৫টি আসনেই বিজেপি জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, ফলে এই জেলাতেও তৃণমূল কার্যত খালি হাতে ফিরেছে।
তবে উত্তর দিনাজপুরে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে তৃণমূল। জেলার ৯টি আসনের মধ্যে ৫টিতে– চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, ইটাহার–জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে করণদিঘি, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ—এই ৪টি আসনে জিতেছে বিজেপি।
দক্ষিণ দিনাজপুরে মোট ৬টি আসনের মধ্যে বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর ও কুশমণ্ডি—এই চারটি আসন বিজেপির দখলে গেছে। অন্যদিকে কুমারগঞ্জ ও হরিরামপুরে জয় পেয়েছে তৃণমূল।
মালদায় ১২টি আসনের লড়াইয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কার্যত সমান টক্কর দেখা গেছে। বিজেপি জয় পেয়েছে ৬টি আসনে—মালদা, মানিকচক, ইংরেজবাজার, বৈষ্ণবনগর, হরিশ্চন্দ্রপুর ও গাজোল। অপরদিকে তৃণমূল জিতেছে বাকি ৬টি আসনে—চাঁচল, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, মালতীপুর, রতুয়া ও হরিশ্চন্দ্রপুর ২।
আগের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টির মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৩০টি আসন, তৃণমূলের দখলে ছিল ২৩টি। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলের ৩২টি বিধানসভা সেগমেন্টে এগিয়ে ছিল বিজেপি, তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১৫টিতে।
কিন্তু এবার সব হিসাব পাল্টে দিয়ে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ৪০টি আসনে জয় বা লিড ধরে রেখে বিজেপি স্পষ্ট আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে উত্তরবঙ্গ যে এবারের নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

