রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই বাংলার নতুন অধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার ৯ মে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ অনুষ্ঠানের আবহে রাজভবন থেকে মহাকরণ পর্যন্ত গোটা এলাকা গেরুয়া আলোর সাজে আলোকিত হয়ে ওঠে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ।

শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অন্যদিকে এদিনই শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রী অধিকারী ছেলের ছোটবেলার নানা স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ছোটবেলায় শুভেন্দু খুব ঘরকুনো স্বভাবের ছিল। বিকেল হলেই হাতে শাবল আর বালতি নিয়ে ফুল ও সবজির বাগানের পরিচর্যায় মেতে উঠত। তিনি আরও জানান, ছেলের জয়ের পর বাড়ির বাগানে বড় বড় পদ্মফুল ফুটতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, “পদ্মই আসছে।” গরমের রাতে পান্তাভাত ও মাছ খেতে খুব পছন্দ করত শুভেন্দু। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত ঠাকুরভক্ত ছিল বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী বলেন, মানুষের সমর্থনেই তাঁর ছেলে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তন ২০২১ সালেই হতে পারত। ছোটবেলা থেকেই শুভেন্দু অত্যন্ত জেদি ও একরোখা স্বভাবের ছিল। মজা করেই তিনি বলেন, রাজনীতিতে না এলে হয়তো সন্ন্যাসীই হয়ে যেত শুভেন্দু।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাঁটু গেড়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রণাম জানান। সেই দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে আলাদা আবেগের সৃষ্টি করে। এদিন বিশেষ সম্মান জানানো হয় ৯৮ বছর বয়সী শিলিগুড়ির বাসিন্দা মাখনলাল সরকারকে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করেন।

শিলিগুড়ি থেকেও বহু পুরনো বিজেপি নেতা ও কর্মী এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আদি বিজেপি নেতা তুফান সাহা, কমল ঘোষ, শ্যামল সাহা সহ আরও অনেকে। গোটা অনুষ্ঠান ঘিরে ব্রিগেড চত্বর কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।