কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে শপথ গ্রহণ করছে।কিন্তু এই বিজেপি দল গঠনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিলো ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। আজ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। কিন্তু জানেন কি
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?

১৯৩৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (Vice-Chancellor) হন। তাঁর সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ভাষা ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৭ সালে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

সবচেয়ে ঐতিহাসিক বিষয় ছিল—
রবীন্দ্রনাথ সেই সমাবর্তন ভাষণ বাংলায় প্রদান করেন। ব্রিটিশ আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথমবার, যখন সমাবর্তন ভাষণ ইংরেজির বদলে বাংলায় দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে শুধু একটি আমন্ত্রণ নয়, বরং বাংলা ভাষা ও ভারতীয় আত্মপরিচয়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। শ্যামাপ্রসাদ মনে করতেন, উচ্চশিক্ষা মাতৃভাষার সঙ্গে যুক্ত না হলে শিক্ষার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। তাই তিনি বাংলা ভাষাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আরও প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন।

রবীন্দ্রনাথ ও শ্যামাপ্রসাদের সম্পর্ক সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বৌদ্ধিক আদান-প্রদানের।
শ্যামাপ্রসাদের পিতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-এর সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের গভীর সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্যামাপ্রসাদের শ্রদ্ধা তৈরি হয়।

উপাচার্য হওয়ার পরে শ্যামাপ্রসাদ রবীন্দ্রনাথকে শুধু কবি হিসেবে নয়, ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক পথপ্রদর্শক হিসেবেও দেখতেন।রবীন্দ্রনাথও শ্যামাপ্রসাদের শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন বলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উল্লেখ পাওয়া যায়।দু’জনের মধ্যে জাতীয় চেতনা, বাংলা ভাষার মর্যাদা এবং শিক্ষার ভারতীয়করণ নিয়ে একটি মানসিক সেতুবন্ধন ছিল।

১৯৩৭ সালের সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে অনেক ইতিহাসবিদ বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মনে করেন। কারণ, ব্রিটিশ শাসনের সময় একটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক মঞ্চে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার বার্তা ছিল।