নিজস্ব প্রতিবেদক : বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আগমনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ উৎসাহ ও কৌতূহলের পরিবেশ তৈরি হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের আন্তর্জাতিক সদর দফতর পরিদর্শনে যান। রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পর আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ গ্রহণ এবং জনকল্যাণের প্রার্থনাই ছিল তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

মঠে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মন্দিরে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন ও প্রার্থনায় অংশ নেন। পরে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত কক্ষে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির এবং শ্রীশ্রীমা সারদা দেবীর মন্দিরেও প্রণাম জানান তিনি। মঠের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সভাপতি মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী।
মঠের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান এবং প্রসাদ ও স্মারক তুলে দেন। স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করে রাজ্যের শান্তি, উন্নয়ন ও সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের মানবসেবার দর্শন আজও সমাজকে সঠিক পথ দেখিয়ে চলেছে। বাংলার কোটি কোটি মানুষের সেবার যে দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন, তা সঠিকভাবে পালন করার শক্তি ও প্রেরণা পেতেই তিনি বেলুড় মঠে এসেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সমাজকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
আধ্যাত্মিক সফর শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে সরাসরি হাওড়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের কাজের শুরুতেই বেলুড় মঠে প্রার্থনা এবং তার পর প্রশাসনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ— এই দুই পদক্ষেপ একসঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক সক্রিয়তা ও বাংলার সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধকেই তুলে ধরেছে।

