নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বাদশ শ্রেণির বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের অসাধারণ সাফল্যকে সম্মান জানাতে এক আবেগঘন ও বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ফুলবাড়ির দার্জিলিং পাবলিক স্কুল। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এআইএসএসসিই পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের সম্মান জানাতে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় সর্বশক্তিমানের উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার প্রতীকী শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গোটা পরিবেশ জুড়ে ছিল গর্ব, আবেগ ও স্মৃতিমেদুর মুহূর্তের আবহ।এদিন দ্বাদশ শ্রেণির একাধিক ছাত্রছাত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাঁরা নিজেদের শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথাও তুলে ধরে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জীবনের আগামী পথচলায় আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের প্রশংসা করে তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ডিরেক্টর ডঃ বিজয় কুমার শা। তিনি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য অধ্যবসায়, সততা ও কঠোর পরিশ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আদর্শ ও মূল্যবোধকে ভবিষ্যত জীবনেও ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংবর্ধনা পর্ব। সেখানে বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের আবেগঘন মুহূর্ত অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
এবারের সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় দার্জিলিং পাবলিক স্কুলের ফলাফল ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মোট ১৪০ জন ছাত্রছাত্রী ৭৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৯৪ জন পেয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি নম্বর।
বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
১) মহম্মদ রাইশ আনসারি (কমার্স) – ৯৭.৪%
২) গায়ত্রী চক্রবর্তী (বিজ্ঞান) – ৯৪.৬%
৩) দেবস্মিতা বসাক (বিজ্ঞান) – ৯৪%
৪) জয় ওরাওঁ (মানবিক) – ৯৩.৬%
৫) অভিজ্ঞান চক্রবর্তী (বিজ্ঞান) – ৯২.৮%
৬) স্নেহাঞ্জলি দাস (বিজ্ঞান) – ৯২.৮%
আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা ও ভবিষ্যতের সাফল্যের কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের এই সাফল্যে গভীর গর্ব প্রকাশ করে এবং আগামী দিনেও সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে।

