মৃত্যুর পরেও মানুষের সেবায় বাঁচতে চান সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানুষের জীবন একদিন শেষ হয়, কিন্তু মানবতার জন্য রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত অনেক সময় মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে। সেই ভাবনা থেকেই বর্তমানে সমাজের বহু সচেতন মানুষ এগিয়ে আসছেন মরণোত্তর দেহদান ও অঙ্গদানের অঙ্গীকারে। কারও শরীরের অঙ্গ অন্য মানুষের নতুন জীবন দিতে পারে, আবার কোনো দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের গবেষণা ও শিক্ষার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এই মানবিক চিন্তাধারাকেই সামনে রেখে সম্প্রতি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছেন শিলিগুড়ির ইসকন
মন্দির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তথা সমাজসেবী সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এবং তাঁর মা। জানা গিয়েছে, তাঁরা অনলাইনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঙ্গীকার সম্পন্ন করেছেন।

সিদ্ধার্থ বড়ুয়া জানান, মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “মৃত্যুর পর শরীর তো একদিন আগুনে পুড়ে যায় বা মাটির নিচে সমাহিত হয়। যদি সেই শরীরের কোনো অংশ অন্য কারও জীবন বাঁচাতে পারে কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে লাগে, তাহলে সেটাই হবে প্রকৃত মানবসেবা।”

বর্তমানে অঙ্গদান ও দেহদান নিয়ে সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন মানুষের অঙ্গদান একাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম। পাশাপাশি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও দেহদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সিদ্ধার্থ বড়ুয়া ও তাঁর মায়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত হয়তো ভবিষ্যতে আরও বহু মানুষকে মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কে সচেতন ও উৎসাহিত করবে।