নিজস্ব প্রতিবেদন : ডুয়ার্সের বানারহাটে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হল “নিশ্চয় মিত্র দিবস সেলিব্রেশন”। বানারহাট তরুণ সংঘ ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল টিবি আক্রান্ত ও অনগ্রসর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্স সোনালী সামন্ত।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অতিথি হিসেবে অংশ নেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল যুবরাজ সিং রাওয়াত এবং কর্নেল ডাঃ মনীশ কুমার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা টিউবারকিউলোসিস অফিসার গৌরাঙ্গ শীল, মেডিক্যাল অফিসার চঞ্চল রক্ষিত, লায়ন্স ক্লাবের স্থানীয় সভাপতি শৈবাল দাশগুপ্ত, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকল্যান ভট্টাচার্য ও চিকিৎসক ডাঃ পার্থপ্রতিম। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষিকা মঞ্জু তামাং প্রসাদ।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আকর্ষণ। তারা মূকাভিনয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে নাট্য পরিবেশন করে উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়।অনুষ্ঠান জমে ওঠে নৃত্য, সঙ্গীত,আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে।
বানারহাট লক্ষ্মীপাড়া চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় বহু টিবি আক্রান্ত ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের চিকিৎসা চললেও শুধুমাত্র ওষুধ নয়, প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্যেরও—এই বার্তাই তুলে ধরেন আয়োজক সোনালী সামন্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের “নিশ্চয় মিত্র” প্রকল্পের আওতায় টিবি আক্রান্তদের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজসেবীদের সহযোগিতার আবেদন জানান।
সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন বহু সমাজসেবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিলিগুড়ির মহিলা পরিচালিত সংস্থার সমাজসেবী মিলি সিনহা ও শ্রাবনী চক্রবর্তী, ভক্তিনগর শ্রদ্ধা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পূজা মোক্তার, শিবমন্দিরের নিড সংস্থার প্রতিনিধি পিন্টু ভৌমিক, সূর্যনগর সমাজকল্যাণ সংস্থা, গ্রীন এনভায়রনমেন্ট প্রিজার্ভেশন সোসাইটি, জলপাইগুড়ির আশ্বাস এনজিও, “আমরা বেকার” সংগঠন, সমাজসেবী সুকান্ত বসুসহ আরও অনেকে এই উদ্যোগে অংশ নেন।
এদিন সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত করা হয় শিলিগুড়ির সংবাদমাধ্যম “খবরের ঘন্টা”-কেও। পাশাপাশি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মী সুমিতা কুন্ডুকেও বিশেষ সম্মান জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ার পরও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে আশা কর্মী ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সোনালী সামন্ত যেভাবে নিরলস কাজ করে চলেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত সকলে।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ সহযোগিতা করেন নিড এনজিওর সমাজসেবী পিন্টু ভৌমিক। টিবি আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

