প্লাস্টিক দূষণ রুখতে সচেতনতার বার্তা, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে শিলিগুড়িতে পোস্টার প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির রামকিঙ্কর হলে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য পরিবেশ বিষয়ক পোস্টার অঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল স্টপ প্লাস্টিক পল্যুশান বা প্লাস্টিক দূষণ রোধ। পোস্টার অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জন এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার বার্তা তুলে ধরে নিজেদের সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।

বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট বক্তারা প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তাদের মতে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ আজ পরিবেশের অন্যতম বড় শত্রু হয়ে উঠেছে। নদী, জলাশয়, মাটি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যেও।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, প্লাস্টিক দূষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর উপাদান ও মাইক্রোপ্লাস্টিক ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে ক্যানসার, হরমোনজনিত সমস্যা, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এখনই সকলকে সচেতন হয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং ন্যাফের কর্ণধার অনিমেষ বসু বলেন, “প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে সোচ্চার হতে হবে। শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কেন পৃথিবীর উষ্ণায়ন বাড়ছে, কেন তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কেন বনাঞ্চল ও গাছপালার সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে মানবসভ্যতাকে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আশাও জাগায়। পরিবেশ বাঁচাতে প্লাস্টিক বর্জন এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।