কেমিক্যাল ধূপে ‘না’, জৈব আরতিতে জোর ইসকনের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভগবানের আরতিতে কেমিক্যাল ধূপ ব্যবহার না করার বার্তা শিলিগুড়ি ইসকনের।মন্দিরে জৈব উপাদানে তৈরি ধূপ ও সামগ্রী ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।কেমিক্যালের প্রভাব শুধু আধ্যাত্মিক নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর বলে মত ইসকন সভাপতির।গোবর সার ও গোরক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

ভগবানের আরতিতে কেমিক্যাল মিশ্রিত ধূপ বা সামগ্রী ব্যবহার না করার আহ্বান জানাল শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির। মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, পূজা-অর্চনায় প্রাকৃতিক ও জৈব উপাদানে তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করাই শ্রেয়। সেই কারণে শিলিগুড়ি ইসকনে কেমিক্যালযুক্ত ধূপের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্দিরের সভাপতি স্বামী অখিলাত্মাপ্রিয় দাস জানান, কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদানে তৈরি ধূপ ভগবানের সেবায় উপযুক্ত নয়। পাশাপাশি এর ধোঁয়া ভক্তদের স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দাবি, কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কেমিক্যাল সারের ব্যবহারের ফলেই বর্তমানে নানা ধরনের রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাজারে রাসায়নিক সারনির্ভর শাকসবজির আধিক্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোবর সারের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই এখন জৈব কৃষির দিকে ঝুঁকছেন এবং কেমিক্যাল সারের বিকল্প হিসেবে গোবর সারকে বেছে নিচ্ছেন।

এমনকি বিভিন্ন চা-বাগান থেকেও গোবর সংগ্রহের জন্য শিলিগুড়ি ইসকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চা চাষে গোবর সারের ব্যবহার উৎপাদনের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিলিগুড়ি ইসকন প্রাঙ্গণে থাকা গোশালাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গরুর দুধ, গোবর ও অন্যান্য উপকরণ মানুষের কল্যাণ এবং পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বহু ভক্ত গোরক্ষার উদ্দেশ্যে অনুদান দিয়ে ধর্মীয় সেবায় অংশগ্রহণ করছেন।
এদিকে, মন্দিরে ব্যবহৃত ফুল পুনর্ব্যবহার করে ধূপকাঠি তৈরির যে উদ্যোগ রাজ্য সরকার গ্রহণ করেছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে শিলিগুড়ি ইসকন।

স্বামী অখিলাত্মাপ্রিয় দাস জানান, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশ বা সহযোগিতার আহ্বান এলে মন্দির কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত