নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব সঙ্গীত দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের যুগল তাৎপর্যে অনন্য বার্তা। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও যোগচর্চার মাধ্যমে সুস্থ জীবনের আহ্বান তরুণ সেতারবাদকের। দীনবন্ধু মঞ্চে সেতারের সুরে মোহিত শ্রোতারা। তবলায় সুনিপুণ সঙ্গত করে প্রশংসা কুড়ালেন অপূর্ব ব্যানার্জী

সঙ্গীত শুধুই বিনোদন নয়, এটি আত্মার সঙ্গে আত্মার সংযোগের এক অনন্য মাধ্যম। আর যোগ যেমন শরীর ও মনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে, তেমনই সঙ্গীত মানুষের অন্তর্জগতকে করে তোলে নির্মল ও শান্ত। বিশ্ব সঙ্গীত দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রেক্ষাপটে এই দুই সাধনার অপূর্ব সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন শিলিগুড়ির ঘোঘোমালি চয়নপাড়ার তরুণ সেতার শিল্পী দেবার্পন কর্মকার।
অল্প বয়সেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ গড়ে উঠেছে দেবার্পনের। তাঁর আঙুলের স্পর্শে সেতারের তারে যখন সুরের ঢেউ বয়ে যায়, তখন শ্রোতারা যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে যান। সুরের মাধুর্যে, রাগ-রাগিণীর আবেশে এবং নিখুঁত পরিবেশনায় তিনি ইতিমধ্যেই বহু সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন।
দেবার্পনের মতে, সঙ্গীত ও যোগ—দুটিই এক ধরনের সাধনা। নিয়মিত যোগাসনের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা তাঁকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় ও ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও সেতারকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণেরও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এসে শাস্ত্রীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে।
শনিবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এক অনুষ্ঠানে দেবার্পনের সেতার পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তাঁর সুরের আবেশে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এই পরিবেশনাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন বিশিষ্ট তবলা শিল্পী অপূর্ব ব্যানার্জী, যার সুনিপুণ সঙ্গত সেতারের সুরকে নতুন মাত্রা দেয়।
বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের প্রাক্কালে দেবার্পনের মতো তরুণ শিল্পীরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আজও প্রাসঙ্গিক, আজও জীবন্ত। সুর ও সাধনার এই পথেই লুকিয়ে আছে সুস্থ, সুন্দর ও সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গঠনের সম্ভাবনা।

