চক্ষুদানে ফিরছে আলো, বদলে যাচ্ছে জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৃত্যুর পরেও অন্যের জীবনে আলো জ্বালিয়ে যাওয়ার এক অনন্য উপায় চক্ষুদান।শিলিগুড়ি গ্রেটার লায়ন্স আই হাসপাতালের আই ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬ জন মানুষ ফিরে পাচ্ছেন দৃষ্টিশক্তি।চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরলেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লায়ন সুরেশ সিনহল।

তাঁর মতে, মানুষের সামান্য সদিচ্ছাই কারও জীবনে এনে দিতে পারে নতুন ভোরের আলো।চক্ষুদান শুধু একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া নয়, এটি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর কর্নিয়া দান অন্য একজন দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে নতুন আলো ফিরিয়ে আনতে পারে। শিলিগুড়ি গ্রেটার লায়ন্স আই হাসপাতালের আই ব্যাংক সেই মহৎ কাজই করে চলেছে নীরবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬ জন মানুষের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে এক অনুকরণীয় উদ্যোগ।চক্ষুদান সম্পর্কে একটি ভিডিও প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লায়ন সুরেশ সিনহল।

তিনি জানান, একজন চক্ষুদাতার কর্নিয়া দু’জন দৃষ্টিহীন মানুষের চোখে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। ফলে একজন মানুষের মৃত্যুর পরও তাঁর দান অন্যের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যেই চক্ষুদান নিয়ে নানা ভুল ধারণা রয়েছে।

অনেকে মনে করেন এতে মৃতদেহের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। মূলত কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া চক্ষুদানের জন্য পরিবারের কোনো আর্থিক ব্যয়ও হয় না।

লায়ন সুরেশ সিনহল জানান, মৃত্যুর সাধারণত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে চোখ সংগ্রহ করতে হয়। তাই পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। জীবদ্দশায় চক্ষুদানের অঙ্গীকার করার পাশাপাশি নিজের ইচ্ছার কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখাও প্রয়োজন।

তিনি সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, চক্ষুদান এমন একটি মহৎ দান, যা মৃত্যুর পরেও একজন মানুষকে সমাজের কল্যাণে বাঁচিয়ে রাখে। একটি সিদ্ধান্তই কারও অন্ধকার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে আলোর স্পর্শ। তাই আসুন, চক্ষুদান সম্পর্কে সচেতন হই এবং অন্যের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হই।