দেশপ্রেমের পাঠ দিলেন মাখনলাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : একদিকে সংবর্ধনা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি— কেউ সেলফি তুলতে ব্যস্ত, কেউ আবার প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছে। কিন্তু ৯৭ বছরের প্রবীণ দেশপ্রেমিক মাখনলাল সরকারের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হলো একটাই বার্তা— “দেশ আগে, দেশ না থাকলে কিছুই থাকবে না। সততার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করো।”

শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন রাজগঞ্জ ব্লকের পুঁটিমারীতে অবস্থিত সারদা বিদ্যামন্দির উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এ শনিবার এক আন্তরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমিক মাখনলাল সরকারকে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁর সততা, আদর্শ এবং দেশসেবার দীর্ঘ জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সারদা বিদ্যামন্দিরের সভাপতি বিপ্লব সেনগুপ্ত, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঞ্চিতা দেবনাথ, বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সদস্য লক্ষ্মী নারায়ণ সরকার, প্রধানাচার্য অনুপ কুমার মণ্ডল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাখনলাল সরকারের সঙ্গে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে পা স্পর্শ করে শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ নতুন করে মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে।

একই সঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ঐতিহাসিক কাশ্মীর সফরের অন্যতম সঙ্গী হিসেবে তাঁর ভূমিকার প্রতিও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এই প্রেক্ষাপটেই তাঁর দেশপ্রেম, সততা এবং আদর্শনিষ্ঠ জীবনকে সম্মান জানিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা, ভারতমাতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সরস্বতী বন্দনার পরিবেশ দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হন মাখনলাল সরকার।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করার শপথ নাও। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ভালো কাজ করলে তার ফল একদিন অবশ্যই পাওয়া যায়। মনে রেখো, দেশ আগে। দেশ শেষ হয়ে গেলে সবই শেষ হয়ে যাবে। তাই দেশের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করো।”

সভাপতি বিপ্লব সেনগুপ্ত এবং প্রধানাচার্য অনুপ কুমার মণ্ডল তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মাখনলাল সরকারের দেশাত্মবোধ, সততা, আদর্শ ও আত্মনিবেদিত জীবন আগামী প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেমের আবহ আরও উজ্জীবিত করে।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ জুলাই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারকে আবারও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও।

অনুষ্ঠান শেষে মাখনলাল সরকারকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই তাঁর সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তোলেন, আবার অনেকে শ্রদ্ধাভরে প্রণাম জানিয়ে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। একজন বিরল দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান মানুষের সান্নিধ্যে এসে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সমগ্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।