নিজস্ব প্রতিবেদক : শিলিগুড়ির ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য প্রতীক আনন্দময়ী কালিবাড়ি। শতবর্ষ পূর্তিকে ঘিরে শুরু হয়েছে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি, যেখানে সেবামূলক উদ্যোগের পাশাপাশি থাকছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে ধর্মীয় ও হেরিটেজ পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ৩০ জুন, আনন্দময়ী কালিবাড়ি প্রাঙ্গণে আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, অঙ্কন ও শ্রুতি নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অর্পিতা দে সরকার।
কালিবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবী ভাস্কর বিশ্বাস জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শতবর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে। রক্তদান শিবির, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা শিবির, শাড়ি বিতরণসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি দুর্গাপূজার আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এই শতবর্ষ উদযাপনকে স্মরণীয় করে তুলতে কালিবাড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ নথি পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্দেশ্য, আনন্দময়ী কালিবাড়িকে হেরিটেজ ট্যুরিজম এবং ধর্মীয় পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
উল্লেখ্য, চারণকবি মুকুন্দ দাসের হাত ধরেই আনন্দময়ী কালিবাড়ির যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই কালিবাড়ি দেশপ্রেম ও প্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এখানে এসে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতেন। আজও শিলিগুড়ি ও আশপাশের অসংখ্য ভক্ত এবং আধ্যাত্মিক অনুরাগীর কাছে আনন্দময়ী কালিবাড়ি সমানভাবে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের স্থান।

