নিজস্ব প্রতিবেদন : সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও সংস্কৃতির আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন শিলিগুড়ির মিতালি ঘোষ।
‘গানে গানে আমরা কজন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল মনোজ্ঞ রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা।সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের সমন্বয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করল এক আন্তরিক সাংস্কৃতিক আসর।

শিলিগুড়ির সেবক রোডের রসিক লাল ঘোষ সরণির বাসিন্দা মিতালি ঘোষের কাছে সংস্কৃতি শুধুই একটি চর্চা নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্কুলজীবন থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আজও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রেখেছে।
ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক এক পরিবারের গৃহবধূ হওয়ার পরও তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত নিজের বাড়িতেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছেন।
তাঁর উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে ‘গানে গানে আমরা কজন’, যেখানে কয়েকজন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ একত্রিত হয়ে গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করে তোলার পাশাপাশি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
এই সংগঠনের উদ্যোগে প্রতি বছর মহালয়ায় মহিষাসুর মর্দিনী অনুষ্ঠান, বসন্ত উৎসব, পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ বরণ-সহ সারা বছর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার রসিক লাল ঘোষ সরণিতে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, আবৃত্তি ও নৃত্যের মনোরম পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিল্পীদের আন্তরিক পরিবেশনায় গোটা অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মিতালি ঘোষ জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য নিজেদের ভালো রাখা, অন্যদের আনন্দ দেওয়া এবং সমাজে সুস্থ ও ইতিবাচক সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলা।
এদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মিতালি ঘোষ, কাকলি পাল, অনুষ্কা দে, নন্দিতা বৈদ্য, শম্পা পাল, মিঠু বণিক, তবলায় রমেন বিশ্বাস, পল্লবী পাল এবং অন্যরা। তাঁদের সম্মিলিত পরিবেশনায় রবীন্দ্র-নজরুলের সৃষ্টির আবহে এক সুন্দর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত দর্শকরা।

