নিজস্ব প্রতিবেদন : উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী উৎপল ব্রহ্মচারী, যিনি ভক্তমহলে ‘উৎপল মহারাজ’ নামেই বেশি পরিচিত, এবারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, উৎপল ব্রহ্মচারী মোট ১,৫৮,৩৪৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের নিতাই বৈশ্য পেয়েছেন ৮১,৯২৪ ভোট। ফলে উৎপল ব্রহ্মচারী প্রায় ৭৬,৪২৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে সিপিআই(এম)-এর হিরু রায় সরকার পেয়েছেন মাত্র ৫,৭৭৯ ভোট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উৎপল ব্রহ্মচারী পূর্বে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সঙ্গে যুক্ত একজন স্বামীজি ছিলেন। তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর সংঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। তবুও তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির বিজেপির সাংগঠনিক জেলা মুখপাত্র কমল ঘোষ বলেন, সাধু-সন্ন্যাসীরা দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা প্রভৃতি রিপুকে দমন করতে সক্ষম হন।
তাঁর মতে, এমন একজন সংযমী ব্যক্তি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলে রাজনৈতিক পরিবেশে শুদ্ধতা ও সততার বার্তা পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অপশাসন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। এই পরিস্থিতিতে সাধু ব্যক্তিত্বের রাজনীতিতে আগমন একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।
বিজেপি নেতাদের মতে, সাধু-সন্ন্যাসীরা সাধারণত মায়া-মোহ ও প্রলোভন থেকে দূরে থাকেন, ফলে প্রশাসনে তাঁদের ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদাহরণও তুলে ধরা হয়।
যদিও জয়ী প্রার্থী উৎপল মহারাজকে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি।
সব মিলিয়ে, সাধু থেকে বিধায়ক হওয়ার এই যাত্রা শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং রাজনীতিতে নতুন এক ভাবনার সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

