নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule) জারি হয়েছে — এমন কোনও সরকারি গেজেট, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি বা রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে এখনই “রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে” বলা সঠিক নয়।

তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও সাংবিধানিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ—সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।নতুন সরকার ৯ মে শপথ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও পদত্যাগে অনীহার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
৭ মে পুরনো বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক “ইন্টারিম” বা অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তাহলে বর্তমানে প্রশাসন কার অধীনে?বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হলেন রাজ্যপাল। সংবিধানের ১৫৩, ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব মূলত রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানেই থাকে।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক দিনের জন্য “caretaker arrangement” বা অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি প্রয়োজন হলে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব সাময়িকভাবে পরিচালনা করতে পারেন বলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মত প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি শাসন কবে বলা হয়?
ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও রাজ্যে “constitutional machinery breakdown”, কন্সটিটিউশনাল মেশিনারি ব্রেকডাউন, হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায়। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন—
1. রাজ্যপালের রিপোর্ট,
2. রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন,
3. কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। তাই “রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে” — এই দাবি আইনগতভাবে এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে—
পুরনো সরকারের কার্যকাল শেষ,
নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি,
প্রশাসন চলছে সাংবিধানিক অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায়,
কিন্তু আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতি শাসন এখনও জারি হয়নি।
অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক ধরনের ট্রানজিশানাল কনৃসটিটিউশানাল ফেজ, “transitional constitutional phase”-এ রয়েছে। নতুন সরকার ৯ মে শপথ নিলে এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতির অবসান হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

