অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদন: খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, অতিরিক্ত মাংস খাওয়া, মদ্যপান, ধূমপান এবং মানসিক চাপ—এই কয়েকটি কারণই নীরবে বাড়িয়ে দিচ্ছে বড় বিপদ। উত্তরবঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা। এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

উত্তরবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং হৃদরোগের মতো জটিল অসুস্থতার প্রকোপ। এর অন্যতম কারণ হিসেবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে অবস্থিত থ্যালামাস ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জন ডাঃ মলয় চক্রবর্তী।

তিনি জানান, বর্তমানে অনেকেই শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মাংসজাত খাবার গ্রহণ করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিয়মিত মদ্যপান, ধূমপান এবং বাড়তে থাকা মানসিক চাপ। এসব অভ্যাস শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডাঃ চক্রবর্তীর মতে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতি এখনও উদ্বেগের বিষয়। অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন না। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক সমস্যা দীর্ঘদিন অজানা থেকে যায় এবং পরে তা গুরুতর আকার ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাত্রা ও সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে বহু জটিল রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এখনই সচেতন হওয়াই ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।